মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সহপাঠীর অভিভাবক নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নাহিদ শেখকে আসামি করে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। আটক নাহিদ শেখ উপজেলার পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বার শেখের ছেলে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে নিজ নিজ বেঞ্চে বসে আছে। এ সময় নাহিদ শেখ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এক ছাত্রকে বেঞ্চ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ঘাড় ধরে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর তাকে দুই হাতে শূন্যে তুলে একাধিকবার মেঝেতে আছাড় দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ওই ছাত্রকে কিল-ঘুষি মারতেও দেখা যায়। হঠাৎ এভাবে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও আছাড় দেওয়ার ঘটনায় শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, পরে প্রধান শিক্ষক নাহিদ শেখকে তার কক্ষে নিয়ে যান। বিষয়টি জানানো হয় সিরাজদিখান থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বুধবার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। ওই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অন্য শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিযোগ বা বিরোধ থাকলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানানো উচিত ছিল। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে ঢুকে একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ বাদী হয়ে নাহিদ শেখকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের। সেই পরিবেশে একজন বহিরাগত বা অভিভাবকের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটি তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তে নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।