ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে কোচিং শেষে ১৬ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাদের অনুসরণ করে একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায় এবং সেখানে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ কি না, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট ফরিদাবাদের সেক্টর-৭৮ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন কোচিং শেষে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী তার ১৬ বছর বয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। অভিযোগ, সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের অনুসরণ করে একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। পরে ভয় দেখিয়ে কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। একই সময় তার বন্ধুকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর প্রায় এক মাস বিষয়টি পরিবারের কাছে জানায়নি দুই কিশোর-কিশোরী। এ সময় কিশোরীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মা। মেয়েটি চুপচাপ থাকছিল, স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিল না এবং কোচিংয়ে যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছিল। একপর্যায়ে মা তাকে বিষয়টি জানাতে বললে কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোরী এবং পুরো ঘটনা জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনিও ঘটনার বিষয়ে একই ধরনের তথ্য দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ফরিদাবাদের বিপিটিপি থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে কুণাল, দীপক ও যশ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণসংক্রান্ত ধারায় মামলা হয়েছে এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের (পকসো) সংশ্লিষ্ট ধারাও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুই কিশোরকে ভয় দেখিয়ে আটকে রাখার সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০ হাজার রুপি নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাঁদের একজনকে দিয়ে ওই অর্থ অভিযুক্তদের একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও তদন্ত করছে পুলিশ। ফরিদাবাদ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হলেও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিল, তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে। এদিকে ঘটনায় জড়িত অন্য সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময়, দুই কিশোর-কিশোরীর অবস্থান, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করছেন। ঘটনার পর দুই কিশোর-কিশোরীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সব দিক যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।