ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি সশস্ত্র আন্দোলন এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় শক্তি। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় সেই ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন উড়োজাহাজের ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে এটি ছিল তৃতীয় হামলা। এর আগের হামলাগুলোতেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছিল। এই হামলা শুধু একটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না; বরং সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করা হলেও প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে দায় স্বীকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি। পাহাড়ি আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হুথিদের উত্থানের শিকড় উত্তর ইয়েমেনের জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনে। ১৯৯০-এর দশকে হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুথির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনটি প্রথমে ধর্মীয় পরিচয়, স্থানীয় বঞ্চনা ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতাকে ঘিরে সংগঠিত হয়। পরে ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে তারা সশস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়। ২০১১ সালের আরব বসন্তে ইয়েমেনের রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার পর হুথিরা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে থাকে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করার মধ্য দিয়ে তারা দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতায় ফেরানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ সামরিক অভিযানেও হুথিদের পরাজিত করা যায়নি। বরং গৃহযুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি, অবকাঠামো ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে। ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে রূপ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথিদের আঞ্চলিক তৎপরতা বাড়ে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে তারা ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা দেখায়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের যোদ্ধার সংখ্যা ২০১৫ সালে আনুমানিক ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ২০২২ সালে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছিল। এই হিসাব অনুমাননির্ভর হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গোষ্ঠীটির জনবল ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে বদলে গেছে যুদ্ধের ধরন হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক হলো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের ব্যবহার। এসব অস্ত্র দিয়ে তারা ইয়েমেনের বাইরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের কারণে প্রতিপক্ষের জন্য প্রতিটি হামলার আগাম সতর্কতা পাওয়া এবং সব অস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে। তুলনামূলক কম ব্যয়ের ড্রোন দিয়েও ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে বাধ্য করা যায়। ফলে হামলায় সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপ তৈরি হয়। তবে হুথিদের অস্ত্রভান্ডার ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীটির প্রকাশিত ভিডিও ও সামরিক দাবির কিছু অংশ প্রচারণার উদ্দেশ্যেও তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অস্ত্রের কার্যকারিতা বা কোনো হামলার সাফল্য মূল্যায়নে নির্ভরযোগ্য সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্স, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহায়তা হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। অস্ত্র, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের বিভিন্ন ধরনের সহায়তার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইরান অবশ্য হুথিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হুথিদের শক্তিকে শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সামরিক সক্ষমতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক, স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সামর্থ্য এবং দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়েই তাদের বর্তমান অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথ দিয়ে সুয়েজ খালমুখী জাহাজ চলাচল করে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। প্রণালিটির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও বিমা ব্যয় বেড়ে যায়। কোনো কোনো জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়। এতে পরিবহন সময়, জ্বালানি খরচ ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাজারের পণ্যমূল্য ও সরবরাহব্যবস্থায়ও পড়তে পারে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে অন্তত ১৩৪টি হামলা চালানোর তথ্য পেয়েছিলেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজে হামলার মাধ্যমে হুথিরা আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়েছে এবং সংঘাতকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে। হুথিদের হাতে বাব আল-মান্দেবের আশপাশের এলাকায় সামরিক চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা থাকলে সৌদি আরবের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়। কারণ, সৌদি আরবের নিরাপত্তা শুধু স্থলসীমান্ত বা শহর রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দর, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথও এর সঙ্গে যুক্ত। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদক। দেশটি পর্যটন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বিমান পরিবহন ও বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, স্থিতিশীল যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলা হলে তার প্রভাব সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। বিমান চলাচল ব্যাহত হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট বাতিল বা পথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিনিয়োগ ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও নিরাপত্তাঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পর বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নেয়। বিদেশি দূতাবাসগুলোও নাগরিকদের বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। সৌদি আরবের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও বিপুল এলাকা, অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বজায় রাখা কঠিন। প্রতিটি হামলা প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ও বাড়ে। তবে হামলার কারণে সৌদি অর্থনীতিতে কতটা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। বিমানবন্দরের কার্যক্রম কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা কতটা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এসবের ওপর প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে। সংঘাতের কেন্দ্রে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির অংশ। তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রায়ই ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। হুথিদের সামরিক তৎপরতা এই নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। তবে হুথিদের সব সিদ্ধান্ত সরাসরি ইরান নিয়ন্ত্রণ করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। গোষ্ঠীটির নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় স্বার্থও তাদের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখে। ইরানের সহায়তা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ালেও হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপকে তেহরানের সরাসরি নির্দেশের ফল হিসেবে দেখলে সংঘাতের জটিলতা আড়াল হতে পারে। সর্বশেষ রিয়াদ বিমানবন্দর হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা বলেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সৌদি আরব যদি পাল্টা হামলা বাড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর বিপরীতে, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে কি না, তা অনিশ্চিত। দীর্ঘদিনের সংঘাত দেখিয়েছে, সামরিক শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও প্রতিপক্ষের স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধকৌশল মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে। সামনে কী অপেক্ষা করছে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চিত করে তুলেছে। একদিকে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা জরুরি; অন্যদিকে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং লোহিত সাগরের নৌপথে প্রভাব আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হিসাবকে জটিল করে তুলছে। এ সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। নতুন করে যুদ্ধ তীব্র হলে ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণের মানবিক সংকটও আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে পাল্টা সামরিক অভিযানের মাত্রা, আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না—এসবের ওপর। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্য বাস্তব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের পথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।