প্রকাশ :: ... | ... | ...

জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের


সংযুক্ত ছবি

পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি; হাফিজ নাঈমের সাড়া, শুরার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ কয়েক দিনের জন্য স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে এ অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানে ফিরে জামায়াতের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে অর্থবহ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জামায়াতের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানরত শেহবাজ শরিফ হাফিজ নাঈমকে লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, সরকারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সংঘাতে জড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান হাফিজ নাঈম। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি লেভি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এএজে ও ডনসহ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর এমন অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। জামায়াতের এই লং মার্চ গত রোববার করাচি থেকে শুরু হয়। পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে দলটি ট্রেন ও সড়কপথে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জামায়াতের নিজস্ব ঘোষণাতেও ২০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। সোমবার রাতে জামায়াতের ট্রেনবহর মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাফিজ নাঈম। তিনি বলেন, ট্রেনটি প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছালেও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তার প্রভাব পড়েনি। তাঁর দাবি, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহরেও মানুষ এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছে। এরপর দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবের দিকে যাওয়ার কথা জানান তিনি। মুলতানে দেওয়া বক্তব্যে হাফিজ নাঈম সরকারের উদ্দেশে বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে বা বিভিন্ন ধরনের বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ‘পেট্রোলিয়াম লেভি’কে ‘এক ধরনের অন্যায্য বোঝা’ হিসেবে বর্ণনা করা জামায়াতের নিজস্ব অবস্থান। জামায়াতের আমির বলেন, তাঁরা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে এবং চিনি আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি আছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির বিরুদ্ধেও জামায়াতের আগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন হাফিজ নাঈম। তাঁর দাবি, ওই আন্দোলনেও দলটি জনগণের স্বার্থের বিষয় সামনে এনেছিল। এর আগে পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াত ও সরকারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে দলটির দাবি অনুযায়ী, লেভি প্রত্যাহার না হওয়ায় তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। সোমবার ডন জানিয়েছিল, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চললেও সমঝোতা না হলে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন হাফিজ নাঈম। জামায়াতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুলতান থেকে লং মার্চের পরবর্তী ধাপ লাহোরের দিকে যাবে। এরপর সড়কপথে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে। দলটির নিজস্ব কর্মসূচি ঘোষণাতেও ইসলামাবাদকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও বাড়তি দামের প্রভাব সামাল দিতে বিভিন্ন ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ কমানো, নতুন সরকারি গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও আনুষ্ঠানিক ব্যয় সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন শেহবাজ শরিফের আলোচনার প্রস্তাব এবং লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধের পর জামায়াতে ইসলামী কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই কর্মসূচির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত বক্তব্যে হাফিজ নাঈম পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবি থেকে সরে না আসার অবস্থান জানিয়েছেন।