প্রকাশ :: ... | ... | ...

রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে অনুমতি না দেওয়া ‘কারিগরি বিষয়’: পাকিস্তান


সংযুক্ত ছবি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে প্রক্রিয়াকরণ করা হয় উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন নির্ধারিত নিয়ম এবং বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়টি ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিসংক্রান্ত কারিগরি এবং প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। হাইকমিশন জানায়, এ ধরনের বিষয়ে কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এর ফলে ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো প্রচারণার অংশ হিসেবে না দেখে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে ইসলামাবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী ফ্লাইটের জন্য ঠিক কোন কারিগরি বা প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল এবং অনুমতি না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব বিষয়ে হাইকমিশনের বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো ফ্লাইট বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব হয়নি বলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিবহনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে অনুমতি না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর জানা নেই। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পৌঁছানোর নতুন সময় প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একজন লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাঁদের জানান, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রোসাটমের প্রতিনিধির কাছে ই-মেইল পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, ফ্লাইটটি কোন বিকল্প পথে আসবে এবং পরিবহনের জন্য আর কী কী অনুমোদন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায়। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ওই জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনায় নির্ধারিত মান অনুযায়ী জ্বালানি পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনে বিলম্বের কারণে প্রকল্পের সামগ্রিক সময়সূচিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের নতুন তারিখ, পরিবহনের বিকল্প রুট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাকিস্তান ঘটনাটিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ এবং রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।