চ্যালেঞ্জার পুলে টানা চার জয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই শক্তিশালী জাপানের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। আইরিন-শারিকারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে। কিন্তু এলিট পুলে তৃতীয় হওয়া জাপানের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। উইমেন’স জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে টানা চার জয়ের পর হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশের মেয়েরা। বৃহস্পতিবার চীনের হুলুনবুইর সিটিতে জাপানের কাছে ২–০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে একটি করে গোল হজম করে তারা। এই হারে বাংলাদেশের শিরোপা বা সেমিফাইনালের পথ শেষ হয়ে গেলেও এখনো টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারে বেশ কয়েকটি আক্রমণ সামলে নিজেদের গোলমুখ অক্ষত রাখে দল। জাপানের আক্রমণভাগকে খুব বেশি সুযোগও দেয়নি বাংলাদেশের রক্ষণ। প্রথম ১৫ মিনিটে গোল না খেয়ে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে যাওয়াটা তাই ছিল বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙে। জাপান পেনাল্টি স্ট্রোক পেলে সেটি থেকে গোল করেন ইয়োসিনো হিরাই। তাঁর গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান। গোল হজমের পরও ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। বরং তৃতীয় কোয়ার্টারে রক্ষণে আরও সংগঠিত হয়ে জাপানের একের পর এক আক্রমণ সামাল দেয় আইরিন-শারিকারা। পুরো ১৫ মিনিট জাপানকে আর গোল করতে দেয়নি বাংলাদেশ। ফলে শেষ কোয়ার্টারে ১–০ ব্যবধানেই যায় দুই দল। কিন্তু চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতেই বাংলাদেশের ওপর আবার চাপ তৈরি করে জাপান। মোমোকা সুজুকি ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন। ম্যাচে ফেরার জন্য এরপর বাংলাদেশ আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও জাপানের শক্ত রক্ষণ ভেদ করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এর আগে চ্যালেঞ্জার পুলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। চাইনিজ তাইপেকে ৭–০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ওই পর্ব শুরু করে তারা। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫–১ গোলের জয় পায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৪–০ গোলে এবং শেষ ম্যাচে হংকং চায়নাকে ৬–০ গোলে হারিয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে সেরা হয় দল। চার ম্যাচে ২২ গোল করার পাশাপাশি একটিও গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ফলে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে দলটির আত্মবিশ্বাসও ছিল বেশ উঁচুতে। কিন্তু এলিট পুলে তৃতীয় হওয়া জাপানের বিপক্ষে সেই দাপট ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। জাপানের বিপক্ষে হারের ফলে এখন স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। সেখানে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য থাকবে আইরিন-শারিকাদের। চ্যালেঞ্জার পুলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাপানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জুনিয়র হকি দলের জন্য পরবর্তী ম্যাচের আগে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও হয়ে থাকবে।