জাতীয় পর্যায়ে আরও ৪টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনকে বছরে অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে চারটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রোববার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে চার জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে এ কথা জানান তিনি। প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। ক্রীড়া খাতকে আরও পেশাদার কাঠামোর আওতায় আনা এবং খেলোয়াড়দের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া খাতকে পেশাদারিত্বের আদলে গড়ে তুলতে এবং খেলোয়াড়দের সঠিক মূল্যায়ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশনা সব ফেডারেশনকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।’ খেলোয়াড়দের মূল্যায়নে নিয়মিত পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি দল কাজ করেছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভাতা পাওয়ার তালিকায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড়রা নিয়মিত পারফর্ম না করলে তাদের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের কার্যকারিতা যাচাই করতে একটি দল কাজ করেছে এবং মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। পারফরম্যান্সের মানদণ্ড অনুযায়ী অনেকেই ভাতা থেকে বাদ পড়ছেন এবং নতুন ক্রীড়াবিদরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা ও সক্ষমতা যাচাই করতে চায় সরকার। এ জন্য বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ফেডারেশন তাদের বার্ষিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদার পরিবেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।