প্রকাশ :: ... | ... | ...

‘ফুটবলের জন্য যা করেছ, পুরো বিশ্ব তোমার কাছে কৃতজ্ঞ’— মেসিকে নেইমার


সংযুক্ত ছবি

একটি যুগের শেষ। মনুমেন্টালের গ্যালারিতে হাজারো কণ্ঠের উচ্ছ্বাস, চোখে জল আর স্মৃতির ভার। মাঠে দাঁড়িয়ে সেই মানুষটি, যিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলকে বহন করেছেন নিজের কাঁধে। লিওনেল মেসির জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়েছে। কিন্তু তার বিদায়ের মুহূর্তে যেন কেবল আর্জেন্টিনা নয়, আবেগে ভেসেছে পুরো ফুটবলবিশ্ব। বুয়েনস আইরেস থেকে রোসারিও, কর্ডোবা থেকে দেশের প্রত্যন্ত শহর—মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে রাস্তায় নেমেছেন অগণিত সমর্থক। কেউ হাতে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকা, কেউ পরেছেন মেসির ১০ নম্বর জার্সি। কোথাও গান, কোথাও উল্লাস, কোথাও আবার প্রিয় তারকার বিদায়ে নীরব আবেগ। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার মুহূর্তটি তাই হয়ে উঠেছিল একটি ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তির চেয়েও বড় কিছু। মেসির বিদায়ে সবচেয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি এসেছে তার পুরোনো সতীর্থ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর কাছ থেকে। বার্সেলোনায় মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে তার পাশে ছিলেন এই সাবেক তারকা। সেই সম্পর্কের স্মৃতি টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির উদ্দেশে রোনালদিনহো লিখেছেন, ‘তুমি আমাদের এতটা হাসিয়েছ এবং ফুটবলকে এতটা উপভোগ করতে শিখিয়েছ!’ এরপরই যেন মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়েছেন রোনালদিনহো। তার মতে, মেসির নাম এখন আর্জেন্টিনা ও পুরো বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে অনুভূতি, সেটি কতটা গভীর—সেটিও স্মরণ করেছেন তিনি। মেসির জাতীয় দলের প্রতি নিবেদনকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। তার ভাষায়, মেসি আর্জেন্টিনা ও দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং জীবন উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে রোনালদিনহো শেষ করেছেন শুভকামনায়—আজকের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য। মেসির আরেক সাবেক সতীর্থ নেইমারের বার্তাতেও ছিল একই আবেগ। বার্সেলোনা ও পিএসজিতে মেসির সঙ্গে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। কখনো সতীর্থ, কখনো প্রতিপক্ষ—দুই ভূমিকাতেই মেসির সঙ্গে তার দীর্ঘ পথচলা। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই নেইমার বলেছেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছেন, তার জন্য পুরো বিশ্ব তার কাছে কৃতজ্ঞ। মেসিকে উদ্দেশ করে নেইমারের বার্তা ছিল আরও ব্যক্তিগত। ফুটবলকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে শেখানোর জন্য বন্ধুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মেসির বিপক্ষে খেলা যেমন সম্মানের ছিল, তার পাশে থেকে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল তার চেয়েও বড় সম্মান—এমন অনুভূতিই প্রকাশ করেছেন নেইমার। মেসির বিদায়কে ঘিরে শ্রদ্ধা জানাতে পিছিয়ে থাকেনি তার দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির স্মরণীয় মুহূর্তগুলো নিয়ে বিশেষ প্রচারণা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তার জন্মশহর রোসারিওতেও দেশের হয়ে শেষ ম্যাচের স্মরণে মেসিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। মনুমেন্টালে বিদায়ী ম্যাচ শুরুর আগেও এসেছে আরেক আবেগঘন মুহূর্ত। বেনিনের অধিনায়ক সেসি ডি’আলমেইদা মেসির হাতে তুলে দেন স্মারক ও চিঠি। প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকেও ফুটবলের এই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সেই দৃশ্যটি যেন বুঝিয়ে দিয়েছে—মেসির বিদায় কেবল আর্জেন্টিনার একটি অধ্যায় নয়, বিশ্ব ফুটবলেরই একটি বিশেষ মুহূর্ত। মেসি চলে গেলেন জাতীয় দলের মঞ্চ থেকে। শেষ হলো আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার দীর্ঘ পথচলা। কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, অর্জন আর ফুটবলকে ভালোবাসার যে ভাষা তিনি তৈরি করেছেন, তা শেষ হওয়ার নয়। রোনালদিনহোর কথাটিই হয়তো মেসির উত্তরাধিকারকে সবচেয়ে সহজভাবে ব্যাখ্যা করে—তিনি শুধু ম্যাচ জেতাননি, একটি প্রজন্মকে ফুটবল উপভোগ করতে শিখিয়েছেন। আর সেই কারণেই বিদায়ের দিনেও মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের ভালোবাসা একই সুরে উচ্চারিত হচ্ছে—ধন্যবাদ, লিও।