বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সে জাতীয় দলের হয়ে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছেন এই তরুণ। মেক্সিকোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শনিবার রাতে এই কীর্তি গড়েন তিনি। অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৬২ মিনিটে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল র্যাঞ্জেলের ভুল পাস intercept করে বল নিয়ন্ত্রণে নেন সুলিভান। এরপর দূরপাল্লার নিখুঁত চিপে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই তরুণ। গোলটি যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। সুলিভানের গোলটি শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসেও বিশেষ মুহূর্ত হয়ে এসেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে চিলির বিপক্ষে গোল করে ১৭ বছর ১৩১ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন ম্যাথিস আলবার্ট। সেই রেকর্ড টিকেছে মাত্র কয়েক দিন। সুলিভান নতুন কীর্তি গড়েছেন তার চেয়ে ১২৬ দিন কম বয়সে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যকার ৮০তম লড়াই। প্রথমার্ধে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল। সুলিভানের গোলের পর শেষ দিকে মালিক টিলম্যান তৃতীয় গোল করেন। ফলে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে মেক্সিকো ৬৭ মিনিটে মাতেও শাভেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয়। জাতীয় দলে সুলিভানের উত্থানও ছিল দ্রুতগতির। সেপ্টেম্বরে পেরুর বিপক্ষে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন। পরে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার পর মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় দলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও এর আগে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন সুলিভান। ২০২৪ সালে মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এমএলএসে অভিষেক করে তিনি প্রতিযোগিতাটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ প্রতিভাদের একজন। সেপ্টেম্বরে সুলিভানের পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। চার ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্টসহ মোট নয়টি গোলে অবদান রেখে তিনি এমএলএসের মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৭ বছর ২ দিন বয়সে পুরস্কারটি জিতে এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মাসসেরা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। একই সময়ে টানা আট ম্যাচে গোল করা বা গোলে সহায়তা করার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি—এটি এমএলএসে কোনো টিনএজারের দীর্ঘতম এমন ধারাবাহিকতা। ২০২৬ মৌসুমে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এখন পর্যন্ত সুলিভানের পরিসংখ্যানও তার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিয়মিত মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ৭ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। মোট ১৯টি গোলে সরাসরি অবদান নিয়ে টিনএজারদের এক মৌসুমের তালিকায় আলফোনসো ডেভিসের ২০১৮ সালের রেকর্ডের সমতায় রয়েছেন সুলিভান। সুলিভানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নও দারুণ সময় পার করছে। বিশ্বকাপের বিরতির পর দলটি টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে সুলিভান ১১টি ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন এবং আট ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুলিভান জানান, ছোটবেলা থেকেই এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলকে নিজের এবং পরিবারের জন্য বিশেষ এক অর্জন হিসেবে দেখছেন এই তরুণ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের এই উত্থান এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের অন্যতম আলোচিত গল্প। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলে একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি এরই মধ্যে ভবিষ্যতের মার্কিন ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।