আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে বল হাতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ, ব্যাট হাতেও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দল। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট এবং এবাদত হোসেনের চার উইকেটে ২৪০ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। তাতে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দল। তাঁদের জুটিতে লিড আরও বেড়েছে। সর্বশেষ পাওয়া স্কোর অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬১ রান; মোট লিড ২৬৭। মুশফিকুর ৬৬ ও শান্ত ৪১ রানে ব্যাট করছিলেন। দিনের শুরুতে আফগানিস্তান ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রান পেরোনোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন অধিনায়ক রহমত শাহ ও উইকেটকিপার-ব্যাটার ইকরাম আলিখিল। কিন্তু নতুন বল হাতে বাংলাদেশের পেসাররা দ্রুত ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন। দিনের তৃতীয় ওভারে ইকরামকে ৩২ রানে বোল্ড করে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন এবাদত। পরের ওভারে হাসান মাহমুদ টানা তিন বলে ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ইসমাত বোল্ড হন ১ রানে, কায়েস শূন্য রানে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। হ্যাটট্রিকের তৃতীয় বলে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। প্রথমে আবেদন নাকচ হলেও অধিনায়ক শান্তর রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে আসে। এই কীর্তিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েন হাসান। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজী। হাসান তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে দেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমেদজাইকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ৫৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন এই পেসার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ পাঁচ উইকেটের ইনিংস। অন্য প্রান্তে এবাদত ৫৬ রান দিয়ে শিকার করেন চার উইকেট। বাকি উইকেটটি পান মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বাংলাদেশের বোলিং তোপের মধ্যেও আফগানিস্তানের হয়ে লড়েছেন রহমত শাহ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ২১৬ বলে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও দুটি ছক্কা। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েন রহমত। আবদুল মালিকের ৬২ এবং ইকরামের ৩২ রানের ইনিংসও আফগানিস্তানকে কিছুটা ভরসা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১০৬ রানে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকেরা। লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য ভালো শুরু ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ১৩ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বলে ক্যাচ দেন। এরপর ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে আউট হন মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেট হিসেবে তানজিদ হাসান তামিম ফেরেন ৩১ রান করে। প্রথম ইনিংসে ৮৩ রান করা এই ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত রান তুলছিলেন, কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। মাত্র ৫৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ আবারও চাপে পড়ে। তখন দলের প্রয়োজন ছিল এমন একটি জুটি, যা শুধু ইনিংস সামলাবে না, লিডকেও নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবে। সেই দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহিম ও শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজন ধৈর্য ধরে ব্যাট করতে থাকেন। আফগান বোলারদের উইকেট পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে ধীরে ধীরে রান বাড়ান তাঁরা। মুশফিকুরের ব্যাটে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, অন্যদিকে শান্তও ঝুঁকি কমিয়ে ইনিংস গড়েন। তাঁদের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের লিড দুইশ রান পেরিয়ে যায়। পরবর্তী আপডেটে জুটিটি আরও বড় হয় এবং দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬১ রানে তিন উইকেট, লিড ২৬৭। বাংলাদেশের জন্য শেষ সেশনটি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান, এরপর বোলারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে টেস্টে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ কত বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারে এবং চতুর্থ ইনিংসে আফগানিস্তানের ব্যাটারদের কতটা চাপে রাখা যায়, তার ওপর।