প্রকাশ :: ... | ... | ...

শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল: কক্সবাজারে গানে গানে সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনন্য প্রতিবাদ


সংযুক্ত ছবি

​সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক-বাহক সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে উদযাপিত হলো এক ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। ১৬ই অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে এই গণ-সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো শহীদ মিনার এলাকা সুরের মূর্ছনা ও প্রতিবাদের উত্তাপে মুখরিত হয়ে ওঠে। ​জাতীয় সংগীতের অমর সুরের মধ্য দিয়ে মূল আয়োজনের শুভ সূচনা ঘটে। এরপরই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গানগুলো একযোগে শতকণ্ঠে ভেসে আসে। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুলের দ্রোহ, প্রেম ও সাম্যের সুর এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। সংস্কৃতিক সংগঠক আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, দেশের চলমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অপসংস্কৃতি, ধর্মান্ধতা এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি এক সুরের প্রতিবাদ। বাংলা সাহিত্যের দুই মহান ব্যক্তিত্বের চেতনার আলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করাই এই প্রতিবাদের প্রধান লক্ষ্য। ​অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের প্রবীণ ও নবীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ জনগণের ঢল নামে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক উত্তাল মঞ্চে। শিল্পীরা জানান, রবীন্দ্র-নজরুল কেবল গান বা কবিতার নাম নয়, তাঁরা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা। তাঁদের শিল্প-চেতনাকে অস্ত্র করেই যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।