রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির অভিযোগে করা মামলায় মিজানুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, মিজানুরকে তাঁর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের সময় সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মিজানুর রহমান নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে যাচাই চলছে বলেও জানিয়েছে ডিবি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ডিবি জানিয়েছে, মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে ডিবি এবং পাঁচজনকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য থাকলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট সাতজন গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিবি। নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে। ফলে এজাহারে কারও নাম থাকা বা গ্রেপ্তার হওয়ার অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্টুডিওটি নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও আশপাশের অন্য জমির মালিকদের মধ্যে জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলা হয়ে থাকতে পারে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তাধীন। ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছে। তাদের ভাষ্য, নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে অন্য জমির মালিকদের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হামলার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে, হামলার পর সালমান মুক্তাদির চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য তাঁর স্টুডিও নয়, প্রকল্পের মালিকপক্ষ হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তখন পর্যন্ত হামলার সঙ্গে চাঁদা দাবির কোনো তথ্য তারা পায়নি। প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিই তাদের তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে। মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা হবে। মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা সাতজনে দাঁড়াল। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।