জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত দুটি মামলাসহ তিনটি মামলার তথ্য আদালতের কাছে গোপন রাখার অভিযোগে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদেরকে বদলি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতার জামিন পাওয়ার পরদিন গত ১২ অক্টোবর সোমবার রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর নিসবেতগঞ্জ এলাকা থেকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বিদ্যুৎ আদালতের একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিন পান। এরপর আবার আত্মগোপনে চলে যান তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, দুলালের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় আরও তিনটি মামলা থাকলেও সেগুলোর তথ্য আদালতকে জানানো হয়নি। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ১৪ মার্চ জয়লাল আবেদীন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় দুলাল ৪৪ নম্বর আসামি। একই দিন বিকেলে কৈলাশরঞ্জন হাইস্কুল মোড় এলাকায় হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে গত ৯ মে রমজান আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন। এ ছাড়া চলতি বছরের ২১ আগস্ট নগরীর সিও বাজারের ক্লাববন্দ এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে নাশকতার পরিকল্পনায় বৈঠকের অভিযোগে ২৮ আগস্ট এসআই মজিবর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ ঘটনায় রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম নাজমুল কাদেরকে বদলি করা হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসিকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গত শনিবার তিনি রংপুর ছেড়ে যান।