প্রকাশ :: ... | ... | ...

জমি না পেয়ে পিতার জানাজা ও দাফনে আপত্তি


সংযুক্ত ছবি

জীবনের শেষনিশ্বাস ত্যাগের পরও শান্তিতে চিরবিদায়ের সুযোগ মিলল না এক হতভাগ্য পিতার। জীবনের সবটুকু উজাড় করে যেসব সন্তানকে বড় করেছেন, মৃত্যুর পর সেই সন্তানদের কাছেই বাবার শেষযাত্রার চেয়ে বড় হয়ে উঠল একখণ্ড জমি। কাফনে মোড়ানো বাবার নিথর দেহের সামনে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের এমন ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজন। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানান তাঁর মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ব্যক্তিরা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। গত ১২ অক্টোবর সোমবার সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন তাঁর ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে জমি না পাওয়ায় মেয়ে হালিমা বেগমের (৫০) মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এরই মধ্যে গত ১১ অক্টোবর রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করা হয়। এরপর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়। হালিমা বেগম বলেন, তিনি ন্যায্য অধিকার চেয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনায় বসা হয়। বিরোধ মিটিয়ে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।