প্রকাশ :: ... | ... | ...

গুণীজনদের গ্রাফিতিতে বদলে গেছে ফুটপাত, স্বস্তিতে পথচারীরা


সংযুক্ত ছবি

কয়েক দিন আগেও রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাত ছিল হকার ও পুরোনো আসবাবের ভ্রাম্যমাণ বাজারের দখলে। পথচারীদের চলতে হতো মূল সড়ক দিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে। এখন সেই ফুটপাত দখলমুক্ত। দেয়ালে শোভা পাচ্ছে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের গ্রাফিতি। পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে বেঞ্চ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে রাখা হয়েছে ডাস্টবিন। কয়েক দিনের ব্যবধানে বদলে যাওয়া এই পরিবেশে স্বস্তি ফিরেছে পথচারীদের চলাচলে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কের ফুটপাত দখল করে পুরোনো আসবাবের ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালিত হতো। ফুটপাতজুড়ে রাখা হতো আসবাবপত্র। এমনকি সড়কের একাংশে চলত আসবাব মেরামত ও বার্নিশের কাজ। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতো। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেককে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো। সম্প্রতি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করে ডিএসসিসি। দেয়ালে আঁকা হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, বাউল সাধক ফকির লালন শাহ, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম, অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি এবং সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর গ্রাফিতি। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষে গত ৫ অক্টোবর ফুটপাতটি উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। সংশ্লিষ্ট এলাকার চেহারা বদলে যাওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, ফুটপাতটি যেন আবার দখল হয়ে না যায় এবং রাজধানীর অন্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেগুনবাগিচার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কয়েকজন পুরোনো আসবাব বিক্রি করতেন। তাঁদের কারণে এ পথে চলাচলকারী পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। ফুটপাত দখলে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলতে হতো। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন পথচারীরা। শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গাছের ছায়ায় পথচারীরা চলাচল করতে পারছেন। ক্লান্ত হলে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার ফলে ফুটপাতটির সৌন্দর্যও বেড়েছে। পথচারী মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পথচারীরা সব সময় ফুটপাত উন্মুক্ত দেখতে চান। আগে ফল ও চা বিক্রেতারা ফুটপাত দখল করে রাখায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হতো। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, এই উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব ফুটপাতই যেন পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।’ আরেক পথচারী মুজাহিদুর রহমান বলেন, সড়কে যানজট থাকলে জরুরি কাজে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে হাঁটার বিকল্প থাকে। কিন্তু রাজধানীর অনেক ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাঁর অভিযোগ, ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সময় অনেক ক্ষেত্রে নারীরা হকারদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হন। ফলে নারী ও শিশুরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারেন না। ডিএসসিসি জানিয়েছে, সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। এ উদ্যোগ সফল করতে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ফুটপাত দখলমুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে পথচারীদের। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পরিবর্তন ধরে রাখা হবে। শুধু সেগুনবাগিচা নয়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। **ট্যাগ:** সেগুনবাগিচা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ফুটপাত দখলমুক্ত, গ্রাফিতি, শিল্পকলা একাডেমি, পথচারী, রাজধানী