প্রকাশ :: ... | ... | ...

চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাসহ ১৮৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিলেন বাদী


সংযুক্ত ছবি

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে করা একটি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী কফিল উদ্দিন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ১৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। আদালতের জিআরও শাখায় কর্মরত কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাদী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার পর আদালত তা মঞ্জুর করেন। এসআই মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি আদালতে করা হয়েছিল। তদন্তের দায়িত্বে ছিল পিবিআই। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার ধার্য তারিখে বাদী কফিল উদ্দিন মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।’ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন কফিল উদ্দিন। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে তিনি মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামি করা হয়েছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আবদুল্লাহ আল মামুন, পিবিআইয়ের সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হারুন অর রশিদ, পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সাইফুল ইসলামসহ ২৬ পুলিশ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। আসামিদের তালিকায় নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ওয়াসিম উদ্দিন ও মোবারক আলীর নামও ছিল। মামলাটির বাদী কফিল উদ্দিন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় সে সময় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে কী কারণে তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখিত আদালত ও পুলিশের বক্তব্যে কোনো কারণ জানানো হয়নি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও মামলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এর মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।