প্রকাশ :: ... | ... | ...

যেকোনো সময় আট দফা এক দফা হয়ে যেতে পারে : জামায়াত আমির


সংযুক্ত ছবি

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা; দাবি না মানলে আট দফা এক দফায় পরিণত হওয়ার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ ও পথে বিভিন্ন পথসভায় জোটের নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের আট দফা দাবি প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। দাবিগুলো যখন এক দফায় পরিণত হবে, তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।’ তিনি আরও বলেন, আট দফা নয় বা দশ দফায়ও পরিণত হতে পারে; আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। জোটের ঘোষিত আট দফার মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চে ছয় দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। পরবর্তী সময়ে দাবির পরিধি বাড়ানো হয়। রংপুরের লংমার্চে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। শনিবার সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশ শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সমাবেশে জোটের নেতারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও লংমার্চের কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জোটের দাবিগুলো পূরণের আহ্বান জানান। সরকার এসব দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠোর হওয়ার বিষয়ে জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। গাজীপুরের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় সরকার উপেক্ষা করেছে—এমন অভিযোগে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিরোধী জোটের এসব কর্মসূচি ও বক্তব্যকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই দেখছে সরকারি দল বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীরা তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের দাবি, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে। এর আগে প্রথম লংমার্চের সময়ও বিএনপি নেতারা বিরোধী জোটের কর্মসূচির সমালোচনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বিরোধীদের লংমার্চ প্রসঙ্গে বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা গেলে তাঁরাই আগে এমন কর্মসূচি দিতেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিটি জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম বিষয়। গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকাসহ চার বিভাগীয় শহরে লংমার্চ এবং নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর সিলেটে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে জোট। রংপুরমুখী দ্বিতীয় লংমার্চের মাধ্যমে মূলত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা, জনজীবনের সংকট ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলোকে একসঙ্গে সামনে এনেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা এসব দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।