প্রকাশ :: ... | ... | ...

আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল, জবাব চাই—কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা


সংযুক্ত ছবি

কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি— এটা কী আমার অপরাধ। আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো। আমি এর জবাব চাই। আমি এখন কেমনে বাঁচব। নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর বাসায় এভাবে আহাজারি করছিলেন মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। ঘটনাস্থল ঘুরে সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী তাদের বাসায় সমবেদনা জানাতে গেলে অপ্রতিমের মা বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো।’ কুবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অপ্রতিমের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে বাসায় ছুটে যান। এ সময় বাবা-মায়ের বুক ফাটা কান্না ও আহাজারি দেখে অনেক চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। এক মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।' আজ শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি সানন্দা এলাকাতেই, বাবার নাম নুরুল আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভুঁইয়া। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতিমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। শনিবার সকালে কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, তাঁরা বাঁশ কাটার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি স্থানে কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখার কথা তাঁর ছেলে জানালে কাছে গিয়ে তাঁরা মরদেহ দেখতে পান। আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ‘ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি, ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। একটু পর মামুন নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বলেন, ম্যাডামের ছেলে নিখোঁজ। আমরা ঘটনা খুলে বলতেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে আছে।’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।’ এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।