পাবনায় ক্ষুব্ধ জনতার হামলা; পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ, গ্রেপ্তার ২ পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কুলুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর গত বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি পচে গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুদি দোকানি মো. মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর ভাড়াটিয়া মো. ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা সংগঠিত হয়ে মোস্তফার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও ক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজিত জনতা বাড়িটির দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ দ্রুত মোস্তফার পরিবারের সদস্যদের সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। হামলায় কেউ আহত হননি। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি মোস্তফার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তিনি তার একাধিক ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর শিশুটিকে কৌশলে একটি ঘরে নিয়ে মোস্তফা ও ইয়াছিন ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর মরদেহটি বস্তায় ভরে ওই ঘরেই রাখা হয়েছিল। শিশুটিকে খুঁজতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর সময় এবং ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহটি বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মোস্তফা ও ইয়াছিন। এ সময় তাঁদের কুকুর তাড়া করলে তাঁরা বস্তাটি পাশের পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ আরও বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এসব বক্তব্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত এবং অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। এদিকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুক্রবারের ভাঙচুরের পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।