প্রকাশ :: ... | ... | ...

ফরিদপুরে সেই এনসিপি নেতা শাহেদের কারখানায় ফের অভিযান


সংযুক্ত ছবি

কর্মচারীর ২০ দিনের কারাদণ্ড, বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও কেমিক্যাল জব্দ ফরিদপুরে অবৈধভাবে ওষুধ তৈরির দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত বায়েজিদ হোসেন শাহেদের সংশ্লিষ্ট আরেকটি কারখানায় ফের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানার এক কর্মচারীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটের ১ নম্বর সড়কে আমেরিকাপ্রবাসী আবুল কাশেমের বাড়িতে অভিযানটি চালানো হয়। ওই বাড়িতে শাহেদের ওষুধ তৈরির কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. সাকিব রহমান আকাশ। আটক জিল্লুর রহমান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড়ভবানীপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। অভিযানের পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযানে জব্দ করা ওষুধ ও কেমিক্যালের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। ফরিদপুর এসআরবির কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, মঙ্গলবার শাহেদের একটি ডিপোতে অভিযান চালানোর পর গোয়েন্দারা তার সংশ্লিষ্ট কারখানার সন্ধানে নামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারখানাটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অবৈধভাবে তৈরি করা বিপুল পরিমাণ ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তার ভাষ্য, অভিযানে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এসব ওষুধ রাজশাহী, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশ বলেন, আগের অভিযানের পর এসআরবির গোয়েন্দারা শাহেদের কারখানার সন্ধান পান। সেখানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ওষুধ পাওয়া গেছে। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং কারখানার একজন কর্মচারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকার মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। ওই অভিযানে শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কারখানায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযানে উঠে আসে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই অভিযানে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে শাহেদকে সাজা দেওয়া হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছিল বলে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানিয়েছিলেন। দুই দিনের ব্যবধানে শাহেদের সংশ্লিষ্ট দুই স্থাপনায় অভিযান এবং অবৈধ ওষুধ তৈরির অভিযোগে তার সাজা ও নতুন করে কর্মচারীর দণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে জব্দ করা পণ্যগুলোর রাসায়নিক গুণমান, উপাদান ও বাজারজাতকরণের পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত পরীক্ষার ফল এখনও জানা যায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহেদকে এনসিপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, শাহেদের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে’। এসব অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। শাহেদ ফরিদপুর জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অবৈধ ওষুধ তৈরির অভিযোগে তার কারাদণ্ডের পর দলটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরদিনই কেন্দ্র থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে। এখন নতুন করে পাওয়া কারখানাটি কতদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল, সেখানে কী ধরনের পণ্য তৈরি হতো, এসব পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং জব্দ করা কেমিক্যাল ও ওষুধের প্রকৃতি কী—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসছে। প্রশাসন ও এসআরবির পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।