প্রকাশ :: ... | ... | ...

‘ফোন দিয়া কইছিলো আইতাছি, কিন্তু আমার স্বামী আর আইলো না’


সংযুক্ত ছবি

পটুয়াখালীর বসাকবাজার এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দরিদ্র অটোরিকশাচালক কাইউম প্যাদা (৫০)। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথের এক কোণে স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায় অসহায়ের মতো বসে ছিলেন কাইউমের স্ত্রী মরিয়ম ও বাবা রাজ্জাক প্যাদা। চোখেমুখে ছিল ঘুম ও ক্লান্তির ছাপ, আর বুকভরা শোক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনার মাত্র আধাঘণ্টা আগেও স্ত্রীকে ফোন করেছিলেন কাইউম। জানিয়েছিলেন, চিকিৎসক দেখানো শেষ হয়েছে, এখন বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। কিন্তু সেই ফেরাই যেন তার শেষ ফেরা হয়ে গেল। অশ্রুসিক্ত চোখে স্ত্রী মরিয়ম বলেন, ‘আমার স্বামী বিকাল ৫টার দিকে ডাক্তার দ্যাখানোর জন্য পটুয়াখালী আইছিল। রাইত ১১টার দিকেও ফোন দিয়া কইছিলো ডাক্তার দ্যাখানো শ্যাষ, এহন আইতাছি, কিন্তু আমার স্বামী আর আইলো না। ফায়ার সার্ভিস আলারা কল দিয়া জানাইছে আহম্নার স্বামী এমার্জেন্সিতে ভর্তি। তারপর চইলা আইছি। আমার স্বামী অটো চালাইতো। আমার ১ ছেলে আর ১ মেয়ে।’ পরিবার কীভাবে চলবে—জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, ‘এহন আল্লায় যেমনে চালাইবে তেমনে চলা লাগবে। কী আর করার। আগে তো স্বামীর আয়ে চলতাম।’ কাইউমের বাবা রাজ্জাক প্যাদা বলেন, ‘আমি যদি জানতাম এইভাবে আমার পোলাডা চইলা যাইবে তাইলে আইতে দিতাম না। পোলাডা কতটা কষ্ট পাইয়া মারা গেল।’ শুধু কাইউমের পরিবার নয়, একই সঙ্গে শোকের মাতম চলছে নিহত অন্য তিনজনের পরিবারেও। প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কাছে রাতটি দীর্ঘ ও বেদনাবিধুর। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাকবাজার এলাকার ধলু গাজীর মোড় সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলস নামের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে অটোরিকশায় থাকা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন—গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চারআনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে পড়েছেন কিনা অথবা পানির ভেতরে আর কোনো মরদেহ আছে কিনা তা দেখার জন্য পুলিশের রেকার ব্যবহার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।