পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ; যান চলাচল স্বাভাবিক গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকালে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কোনাবাড়ী থানার আমবাগ মিতালী ক্লাব এলাকায় অবস্থিত হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মিতালী ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়া এবং বারবার কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে শ্রমিকেরা কারখানার আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা আমবাগ এলাকার পি.এন. নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিল্প পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, গত ১০ তারিখ থেকে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা পরিশোধ করা হয়নি। ২২ তারিখ পার হয়ে গেলেও তাঁরা বেতন পাননি। ফলে বাসাভাড়া, দোকানের বাকি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ পরিশোধ করতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পাশের একটি কারখানায় হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।