ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগ; ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও ২ লাখ টাকা দাবি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে তার ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ যুবক বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এ সময় মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মো. রাজীব (২৩) নামের এক যুবককে **আটক করেছে পুলিশ**। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার একটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ। ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানায়, রাতে পাঁচ যুবক ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। প্রবাসীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তারা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে ঢোকেন। এরপর ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। পরে আলমারি থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, রাজীব মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করে পুলিশ। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। পুলিশের দাবি, আটকের সময় রাজীব তার মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। ওই মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। গফরগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। **ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেডিকেল প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।** এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশের ভাষ্য, বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। তাই ভুক্তভোগীর করা ধর্ষণ, লুটপাট, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা, ভিডিও ধারণ এবং অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগগুলোর কোনটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।