কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন এক ছেলে ও ছয় মেয়ে। সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে জানান তাঁরা। এ নিয়ে দিনভর দেনদরবার ও সালিস-বৈঠকের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুর রব। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রবের ১০ সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাঁর মেজো ছেলে সালাউদ্দিন ও সেজো ছেলে আলাউদ্দিন বাবার জীবদ্দশায় কৌশলে সব সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অন্য সন্তানেরা। এ নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও দূরত্ব তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা দেন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করা সন্তানেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকালে আব্দুর রবের জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হলে ছোট ছেলে সাইদুর রহমান ও ছয় মেয়ে দাফনে বাধা দেন। তাঁদের দাবি, সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাবার মরদেহ দাফন করা যাবে না। পরে বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিস-বৈঠক হয়। তবে সমঝোতা না হওয়ায় বিষয়টি সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ায়। দিনভর আলোচনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আব্দুর রবের মরদেহ দাফন করা হয়। স্থানীয় মসজিদের সভাপতি মো. সামছুল হক বলেন, পরিবারের সদস্য ও সমাজের কাউকে না জানিয়ে আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন গোপনে বাবার কাছ থেকে সব সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ছোট ছেলে সাইদুর রহমান বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার নামানোর জন্য খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রয়োজন হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ভাইবোনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সামছুল হক আরও বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের মুখে থাকা দুই ভাই ওই বৈঠকগুলোতে উপস্থিত হননি। মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমদ বলেন, বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ শ্রীধরপুর গ্রামে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সবার সম্মতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।