কর্মসূচি পালনে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২৫-২৬ সেশনের প্রায় আড়াই হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম করেছে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় তিতুমীর কলেজ মাঠে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল, কলমদানি, পবিত্র কোরআন ও অনুপ্রেরণামূলক ইসলামী বইসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা নবীনদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
এদিকে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ছদরুদ্দীন আহমেদের সই করা হাতে লেখা একটি নোটিশে ১৫ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাত্রী পূজা উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে সব ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তিতুমীর কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে একই সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রদল থেকে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠিত হওয়া ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া, উপস্থিত ছিলেন তিতুমীর কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে (ডাকসু) পরিবহন সম্পাদক ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে আবারও পুরনো ফ্যাসিবাদী কালচারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার ব্যস্ত হয়ে গেছে। আমাদের তরুণ সমাজ নিয়ে বিভিন্ন রকম চক্রান্ত চলছে। আমাদের হাজার হাজার লক্ষ শিক্ষার্থী বেকার, অনেককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ৪৯তম বিসিএসে কোয়ালিফাই করেছিল এমন কিছু শিক্ষার্থী ভাইকে গেজেট থেকে বাতিল করা হয়। পরে আমাদের আন্দোলনের পর সেই শিক্ষার্থীদেরকে তারা গেজেটভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতরাতে দেখলাম এই সুন্দর অনুষ্ঠান নষ্ট করতে তিতুমীর কলেজ প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলো। তিতুমীর কলেজ প্রশাসন এতটাই ‘ক্ষ্যাত’ যে তারা নোটিশ হাতে লিখে দিয়েছে। যেই হাতের লেখায় নোটিশ জারি করছে, সেই হাতের লেখা অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়ে বুঝতে পারেনি। এই ‘ক্ষ্যাত’ প্রশাসনকে আমরা ধিক্কার জানাই।
নবীনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি ইসলামী ছাত্রশিবির কখনো অন্যায় করে, তোমরা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক বিষয়গুলো গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী জুলাই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং নিজের লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নৈতিকতা ও আদর্শ বজায় রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।