সংগ্রামের বর্ণিল চরিত্র মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ

মাওলানা আকরম খাঁ কেবল কোনো ব্যক্তি নাম মাত্রে পর্যবসিত নন, পরন্তু তিনি স্বয়ং একটি প্রবহমান মহাবৃত্তান্ত,যাঁর ঔরসজাত কীর্তির ওপর এই মর্ত্যলোকে নানাবিধ নিবিড় জ্ঞানতাত্ত্বিক অভিসন্দর্ভ ও তত্ত্বানুসন্ধান সম্পাদিত হয়েছে। তিনি আমৃত্যু অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সপক্ষে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। “কেউ সাথে না এলে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য একাই পথ চলতে হইবে” এই মহিমান্বিত আপ্তবাক্য থেকেই অনুধাবন করা সম্ভব, মাওলানা মোহাম্মাদ আকরম খাঁর প্রকৃত স্বরূপ ও চিন্তাগত মহিমা কী ছিল। তিনি রাজপথ থেকে শুরু করে মসজিদ পর্যন্ত সর্বাঙ্গে স্বীয় অবস্থানের সমুজ্জ্বল জানান দিয়েছেন। তিনি কখনো আত্মপরিচয়ের গ্লানি কিংবা হীনম্মন্যতায় নিমজ্জিত হননি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করে গেছেন; “আমাকে যদি কোনো আদর্শবাদে চিহ্নিত করতে চাও, তবে ওহাবী বলে আখ্যায়িত করো।” ওহাবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করা আরেক প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সংবাদ ও রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব আবুল মনসুর আহমদ সহেব মাওলানা আকরম খা‘র পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে ব্যক্ত করেছেন; ‘মাওলানা আকরম খাঁ কেবল একটি ব্যক্তিসত্তা ছিলেন না, অন্যান্য বহু নেতার ন্যায় তিনি শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একটি বিশেষ যুগের প্রতিনিধি, যুগের প্রতীক।’ বর্তমান প্রজন্ম এই কালজয়ী জননেতাকে প্রায় বিস্মৃতির অতল গহ্বরে বিসর্জন দিতে চলেছে। ফলশ্রুতিতে মনস্থ করলাম, তাঁর উদ্দেশ্যে কিঞ্চিৎ লেখনী চালনা করি; তদ্দ্বারা যদি বর্তমান প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা সম্ভবপর হয়। পরন্তু আমি তো জ্ঞানতাত্ত্বিক দীনতায় ক্লিষ্ট। তাঁর ন্যায় এতাদৃশ মহান ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লেখনী ধারণ আমার পক্ষে ধৃষ্টতাস্বরূপ। কতিপয় দিবস পূর্বে রাজ্জাকী আহসান সহেবের বিদ্যাবত্তামূলক সন্দর্ভ অধ্যায়ন করছিলাম। তিনি “Some Aspects of Bengali Muslim Social and Political Thought, 1918–1947” শিরোনামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে স্বীয় পিএইচডি সন্দর্ভ সম্পন্ন করেছেন। উক্ত সন্দর্ভটি পর্যালোচনাকালে প্রত্যক্ষ করলাম, গবেষক মহোদয় প্রথম অধ্যায়েই মাওলানা আকরম খাঁ-কে নিয়ে দীর্ঘ ও সুবিস্তৃত সন্দর্ভ উপস্থাপন করেছেন। আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত উচ্চমার্গীয় এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ। তখন অনুধাবন করলাম, আকরম খাঁ সাহেবের অংশটি অনূদিত করাই শ্রেয়। এটাই হবে যথার্থ পদক্ষেপ; কেননা সুযোগ্য ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে সুযোগ্য মনীষীই লেখনী ধারণ করেছেন। উক্ত গবেষণাটি বহু কালপূর্বের হওয়ায় অনুবাদকের পক্ষ থেকে কতিপয় পাদটীকা সংযোজন করতে হয়েছে একান্ত বাধ্য হয়েই। যেসব পাদটীকা অনুবাদকের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর শেষে “(-অ)” লিখে দেয়া হয়েছে। প্রত্যাশা করি, সমগ্র প্রবন্ধটি পাঠ করলে পাঠকসমাজ মাওলানা মোহাম্মাদ আকরম খাঁ সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা লাভ করতে পারবেন। মাওলানা সাহেব কে কেন্দ্র করে অদ্যাবধি কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা-তৎপরতা সুসম্পন্ন হয়নি।...

$post['title']

ঈদের চাঁদ

$post['title']

সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস : বাংলার নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস

$post['title']

দুই লাখ নয়, চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা

$post['title']

'তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট; ২৬শে মার্চ, ১৯৭১ সাল'

$post['title']

ইরান যুদ্ধে কাটা যাচ্ছে আপনার আমার পকেট!