২০২৩ সালে প্যারিসে নিজ বাসায় ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হন ইতালির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। ওই সময় পিএসজিতে খেলতেন তিনি। বাসায় ছিলেন তার তৎকালীন অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবী ও বর্তমান স্ত্রী আলেসিয়া এলফান্তে। দুজনই মারধরের শিকার হন। সেই ঘটনার মামলায় গত দুই দিনের স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রায় দিয়েছেন আদালত।
এই ভয়াবহ ডাকাতির সঙ্গে জড়িত দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেকজন বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ২১ বছর বয়সী ইলিয়াস খারবোউশকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন প্যারিস ফৌজদারি আদালত এবং ৮০ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। তার সহযোগী মোক্তার ডি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়েছে, অবশ্য দুই বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত খায়ান এম খালাস পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কারাগারে বসে ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০২৩ সালের সেই ডাকাতির ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য প্যারিসের একটি ফৌজদারি আদালতে দুই দিনব্যাপী শুনানির সময় সামনে এসেছে। দোন্নারুম্মার সাক্ষ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, নাকল ডাস্টার দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয় এবং ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।
এই গোলকিপার যখন প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে খেলতেন, তখনকার ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটিতে বেশ কয়েকটি দামি ঘড়ি, গয়না, হ্যান্ডব্যাগ, নগদ অর্থ এবং একটি মার্সিডিজ ও একটি ল্যাম্বরগিনির চাবি চুরি হয়ে যায়।
২৯ বছর বয়সী এলেফান্তে জানান, সেফের পাসকোড দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জানান যে তিনি কোডটি জানতেন না এবং সেফটি ফাঁকা ছিল। তিনি তদন্তকারীদের বলেন, ‘আমি মিথ্যা বলছি ভেবে তারা রেগে যায়। তারা আমার চুল ধরে টানে এবং তাদের একজন আমার উরুতে আঘাত করে। আমি অন্তঃসত্ত্বা বলার পরও তারা থামেনি।’
দোন্নারুম্মা তাদের পাসকোডটি দিয়েছিলেন, কিন্তু এলেফান্তের কথা মতোই সেটি ফাঁকা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চার ডাকাত মই ব্যবহার করে ছাদ পর্যন্ত পৌঁছায়। তারপর ব্যালকনিতে নেমে এসে জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
পুলিশের ধারণা, জেলখানা থেকেই ইলিয়াস খেরবুশ এবং খিয়ান মামুনি এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। তবে তারা দুজনই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডাকাতদের দুজন ঘটনার সময় ১৮ বছরের কম বয়সী ছিল এবং শিশু আদালতে তাদের তিন ও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য এক সন্দেহভাজন ২০২৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছিলেন যে সহযোগীদের চাপে পড়ে তিনি এ কাজ করেছিলেন।