প্রথম ইনিংসে চার উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি—কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচেও দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট নিয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে উস্টারশায়ারের বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েছিলেন হাসান। কাউন্টিতে নিজের প্রথম অভিযানে মাত্র চার ম্যাচেই তার উইকেটসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬-এ।
ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে ম্যাচের তৃতীয় দিন ডার্বিশায়ার শুরু করেছিল ১ উইকেটে ১০০ রান নিয়ে। আগের দিন দলটির একমাত্র উইকেটটি নিয়েছিলেন হাসান। তৃতীয় দিনও কেন্টকে প্রথম দুটি সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশের এই পেসার।
অফ স্টাম্প ঘেঁষা বলটি ব্যাটের কানায় লাগিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন ৪৬ রান করা ম্যাথু মন্টগোমেরি। তার সঙ্গে ওপেনার হ্যারি কেইমের জুটি ভাঙে ৯৯ রানে। কিছুক্ষণ পরই হাসানের শিকার হন ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি রান করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কোনো রান না করেই।
হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ডার্বিশায়ারকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে পারেনি কেন্ট। ব্যাটিংয়ের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়ে আসা উইকেটে কেন্টের অন্য বোলারদের ওপর চড়াও হন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার কেইম করেন ৫১ রান। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১২৯ রান করা মার্টিন অ্যান্ডারসন দ্বিতীয় ইনিংসেও করেন ৫০।
সাতে নেমে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ব্রুক গেস্ট আরও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। ইনিংস ঘোষণার সময় ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ডার্বিশায়ার।
প্রথম ইনিংসে ৮১ রানের লিড পাওয়া ডার্বিশায়ার তাই কেন্টের সামনে জয়ের জন্য ৪৩৪ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। ম্যাচের শেষ ইনিংসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া কঠিন; বরং ম্যাচ বাঁচানোই এখন কেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬ ওভার বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন হাসান। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৫৮ রান দিয়ে নিয়েছিলেন চার উইকেট। অর্থাৎ ম্যাচে ৪৮ ওভার বোলিং করে ৯০ রান খরচে তার শিকার সাত উইকেট।
এর আগের ম্যাচেও উস্টারশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। সেই ম্যাচে তার বোলিং কেন্টের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাউন্টিতে অভিষেক মৌসুমেই ধারাবাহিকভাবে এমন পারফরম্যান্স করে নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি বোলার।
অন্যদিকে কাউন্টিতে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সৈয়দ খালেদ আহমেদ প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট পাননি। ডার্বিশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮.৪ ওভার বোলিং করে ৬৪ রান দেন তিনি।
হাসানের তিন উইকেটের পাশাপাশি কেন্টের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন একানশ সিং ও বার্টি ফোরম্যান। তবে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডার্বিশায়ারের লিড থামানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪৩৪ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে কেন্টকে।