বিদেশি কোচের অধীনে প্রথম প্রস্তুতি

খালেদা জিয়া হ্যান্ডবলে ফাইনালে চোখ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০
 ছবি:

বিদেশি কোচের অধীনে প্রথম প্রস্তুতি, তিন মাসের অনুশীলনে ১৭ জনের দল; শিরোপার লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা

দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল এবার ঘরের মাঠে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে। দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বসছে আন্তর্জাতিক নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট—আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার নামকরণ করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে।

স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। পাঁচটি দল অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তান আসতে না পারায় প্রতিযোগিতায় দলসংখ্যা কমেছে। ইয়েমেনেরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটি দল পাঠাতে পারেনি।

প্রতিযোগিতায় ফাইনালে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি। তবে তাঁর মতে, শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবলে চলবে না। নেপাল ও মালদ্বীপও সাম্প্রতিক সময়ে খেলায় উন্নতি করেছে। নিশি বলেন, এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। তাঁদের আশা, ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। নেপালের আটজন খেলোয়াড় সেনাবাহিনীর দলের হয়ে খেলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি শক্ত প্রতিপক্ষ। তাই শুধু ভারতকে ঘিরে পরিকল্পনা করলে হবে না।

বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসোর লক্ষ্য অবশ্য শুধু এই প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করা নয়; ভবিষ্যতের জন্য দলকে প্রস্তুত করাও। মেয়েদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য সব দিক থেকেই চমৎকার। দলকে কেবল বর্তমান টুর্নামেন্ট জেতানোর জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় ভালো করার ভিত্তি গড়তেও কাজ করছেন তাঁরা। তাঁর বিশ্বাস, দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভাব। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলায় প্রতিপক্ষের বর্তমান শক্তি ও খেলার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া কঠিন। এ বাস্তবতা স্বীকার করেই আনা আলোনসো জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। লড়াই, পরিশ্রম এবং প্রতিটি বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে চান না তিনি।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও টুর্নামেন্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর এস এম খালেকুজ্জামান জানান, প্রায় তিন মাস ধরে জাতীয় দলকে প্রস্তুত করা হয়েছে। শুরুতে ৯০ জন খেলোয়াড় নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে ১৭ জনকে। তাঁর প্রত্যাশা, স্বাগতিক দল ফাইনালে খেলবে।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সূচিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৮, ১৯ ও ২০ অক্টোবর প্রতিদিন দুটি করে লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে প্রতিটি দল একবার করে অন্য দলের মুখোমুখি হবে। লিগ পর্ব শেষে ২১ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ এবং ২২ অক্টোবর হবে স্বর্ণপদকের লড়াই।

হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ইয়েমেনের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা আসতে পারেনি। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের দলে পাঁচজন ইরানি পাসপোর্টধারী খেলোয়াড় থাকায় আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে এই প্রতিযোগিতাকে শুধু ঘরের মাঠে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছে না বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। সামনে এসএ গেমসকে লক্ষ্য রেখে দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, আগের দুটি এসএ গেমসে নেপালের কাছে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। এবার সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ভালো ফল করাই তাঁদের লক্ষ্য।

ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে বাংলাদেশকে প্রথম থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ঘাটতি, প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সীমিত ধারণা এবং নতুন কোচের অধীনে সমন্বয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেই বাধা পেরোতে চায় স্বাগতিকরা। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে ওঠার প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

১

ভয়াবহ আগুনের পর টঙ্গীর সেই ওষুধ কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

২

সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত

৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ: তিন আসামি রিমান্ডে

৪

খালেদা জিয়া হ্যান্ডবলে ফাইনালে চোখ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের

৫

ইরান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে, তেলের দাম হু হু করে কমবে-দাবি ট্রাম্পের

৬

‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

৭

ধারাবাহিক ব্যর্থ বাটলার-টিটু, জবাবদিহি করবে কে

৮

রাহুল গান্ধী ভারতে ‘বাংলাদেশের মত নৈরাজ্য’ চাইছেন: বিজেপি

৯

মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা?

১০

বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস ও অদৃশ্য শ্রমের গল্প

১১

আবাহনীর পর ফিফার নিষেধাজ্ঞায় আরামবাগ

১২

সাফে খেলার ছুটি পেয়েছেন রোনান সুলিভান, বাড়ছে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের শক্তি

১৩

বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বদলগাছীতে নবাগত ওসির সভা ছাড়লেন সাংবাদিকরা

১৪

নরেন্দ্র মোদি স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছেন, জরুরি অবস্থা জারির মতো সাহস নেই: দীপকে

১৫

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু শুরু, কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে আয়োজন

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত