‘প্রভাত ফেরির মিছিল যাবে, ছড়াও ফুলের বন্যা’

পাভেল রহমান
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রক্তের দামে কেনা যে ভাষায় লেখা হয়েছে বাঙালির মুক্তির গান, সেই ভাষার দিনে বেদনা আর গর্ব নিয়ে সব পথ মিলেছে শহীদ মিনারে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ; ওই রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি আর তার সিঁড়ি বেয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

বাঙালির সেই আত্মত্যাগের দিন এখন কেবল আর বাংলার নয়, প্রতিটি মানুষের মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দিন। রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছিল ভাষার অধিকার, একুশের প্রথম প্রহরে সেই সব শহীদদের সশ্রদ্ধ সালাম জানাল বাংলাদেশ।

এবার এমন এক সময়ে জাতি একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করছে, যখন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অসীন হয়েছে নতুন একটি সরকার, সেই সরকার আশা দেখাচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতার, গণতান্ত্রিক উত্তরণের।

শুক্রবার রাত ঠিক ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ১২টা ৮ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর শহীদ মিনারে দোয়া করা হয়। ভাষা শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এ সময়।

ভাষা শহীদদের স্মরণের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে শহীদ মিনারে দোয়ার আয়োজন এবারই প্রথম।

 

দোয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও এ সময় আলাদাভাবে ফুল দেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভা ও বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একই সময়ে তাদের বাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা বেদীতে দাঁড়িয়ে মোনাজাতও করেন।

প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

১১ দলীয় জোটের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার ও কূটনীতিকরা শহীদ মিনারে ফুল দেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনাররা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব আলাদাভাবে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

 

এরপর সিন্ডিকেট ও সিনেটের সদস্যদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধা নিবেদন যখন চলছিল, তখন নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো মানুষ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা জড়ো হন শহীদ মিনারের আশপাশে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এরপর একে একে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গৌরবময় সেই অতীত স্মরণ রাতেই শেষ হবে না। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাতফেরির মিছিল হবে পথে পথে।

শহর থেকে গ্রাম সবখানেই সেই মিছিল গিয়ে শেষ হবে একই জায়গায়। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে শহীদ মিনারের বেদী। কবির ভাষায়, “প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে/ছড়াও ফুলের বন্যা/বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।”

ফুলের গুচ্ছ, স্তবক আর মালা থাকবে হাতে হাতে। কণ্ঠে মর্মস্পর্শী গান, ‘আমার ‌ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...’।


সকল ভাষার দিন
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।

‘দেশের সোনার ছেলে খুন করে’ যারা মানুষের দাবিকে রুখতে চেয়েছিল, ‘দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে’ তারা পার পায়নি। বরং খুন রাঙা ইতিহাসে তাদের পতন হয়েছে। ইতিহাসে অমর হয়েছে ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু গড়া-এ ফেব্রুয়ারি।

প্রতিবাদের মুখে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালি রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, তা এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এবার মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সঠিক চর্চা
ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। নিজ মাতৃভাষার অধিকার হরণের এই অন্যায় সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের জনগণ।

“বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আদায় করে নেয় মাতৃভাষার অধিকার। আমাদের নিজস্ব জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। মূলত ভাষা আন্দোলন ছিল নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন। আমাদের স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের চেতনাই যুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস।”

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতি হিসেবে এটি আমাদের অন্যতম গৌরবময় অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান ধারক ও বাহক। অনেক ত্যাগ ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান সংরক্ষণে তাই আমাদের আরো যত্নবান হতে হবে। উন্নত বিশ্বের সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষার ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ জাতি ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ইতিবাচক অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা করি।

“মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হোক, দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হোক- মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ কামনা করি।”

শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, “আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।”

তিনি বলেন, “মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরো মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের ‘মূল চেতনা’।

“এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ভাষা শহীদ এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবতকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

বিশ্বজুড়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আসুন, আমরা দেশে বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করি।”

নানা আয়োজন
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা হবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব টেলিভিশন স্টেশনে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রকাশ করা হবে।

ভাষার চেতনাকে ধারণ করে বাংলা একাডেমি প্রতি বছর ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন করে থাকে। এবার বইমেলা হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

এবার নির্বাচন এবং রোজার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে থেকে বইমেলা শুরু সম্ভব হয়নি। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারির দিন বইমেলায় যে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, তা এবার হবে না।

বইমেলা ঘিরে বাংলা একাডেমি প্রতিবছরই একুশে ফেব্রুয়ারিতে শিশুকিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবার তা হবে ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজন করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে পাঠ-আবৃত্তি, সম্মেলক ও একক কণ্ঠে গান। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলা ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং বিদেশি ভাষার কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষার নাগরিকরা নিজ নিজ ভাষার কবিতা পাঠ এবং বাংলা অনুবাদ পাঠ করবেন। বাংলা কবিতা আবৃত্তি করবেন আবৃত্তি শিল্পীরা।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য শনিবার বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে আয়োজন করবে একুশের অনুষ্ঠান।


আরও আয়োজন
গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীতে ট্রাকের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান এবং নৌযানের সাহায্যে ঢাকা শহর সংলগ্ন নৌপথে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনসহ জেলা-উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে।

এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ‍করা হবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ছড়া ও কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এ বইমেলায় অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মেলা উপলক্ষে বিশেষ শিশু সংখ্যা প্রকাশ করবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও অধীনস্থ শাখা জাদুঘরগুলো, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সকল প্রত্নস্থান ও জাদুঘরগুলো শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিনা টিকেটে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভাষা আন্দোলনের ওপর বিভিন্ন প্রামাণ্য নিদর্শন প্রদর্শন, ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অঙ্কন ও প্রদর্শন, শিশু-কিশোরদের সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা এবং সেমিনারের আয়োজন করবে।

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

সূত্র : বিডিনিউজ

এলাকার খবর

সম্পর্কিত