হান্নান মাসউদের এমপি পদ শূন্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
হান্নান মাসউদ এমপি ছবি:
হান্নান মাসউদ এমপি ছবি:

হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে বুধবার (১৯ আগস্ট) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন রিটটি করেন।

রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল বলেন, "তিনি (আবদুল হান্নান মাসউদ) হলফনামা সম্পর্কে অবগত না হয়ে সই করে তা দাখিল করেছেন। এটা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এটা একটি জালিয়াতি। হান্নান মাসউদের নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতেই তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এজন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।

নির্বাচনের আগে হলফনামায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি দেশের সবচেয়ে কম বয়সী সংসদ সদস্য হিসেবে আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং এনসিপির নেতৃত্বে আসেন।

তবে নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিটে যে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হবে কি না এবং অভিযোগগুলো তার নির্বাচিত হওয়ার আইনগত যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলে কি না—তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু অভিযোগ উত্থাপনই সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়; আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের ভিত্তি, হলফনামায় দেওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইনের বিধান পর্যালোচনা করা হবে। ফলে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে, নাকি রিটের পরবর্তী কার্যক্রমে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রিটটি গ্রহণের পর আদালতের আদেশ ও পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। তখনই স্পষ্ট হবে, হলফনামায় কী ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়েছে এবং তা নির্বাচনী আইনের দৃষ্টিতে কতটা গুরুতর।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত