ছোটদের আনন্দে কাটল বইমেলার একবেলা

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

গল্পপাঠ আর পুতুলনাট্যে এবারের একুশে বইমেলার শেষ শুক্রবারের প্রথম বেলাটা ছিল আনন্দের। ছোটদের পাশাপাশি বড়দেরও এই আনন্দে শরিক হতে দেখা গেছে। শুক্রবার মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

ছুটির দিনে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সময় বেলা ১১টা থেকে ১টাকে ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করেছে আয়োজকরা। বেলা ১১টায় মেলা শুরুর পর থেকেই অনেকে অভিভাবক আসেন সন্তানদের নিয়ে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেলে আদিবকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন ফাহমিদা আলম। তিনি বলেন, ‘মেলা শুরু হওয়ার পর প্রথম শুক্রবার এসেছিলাম। আজকে আবার এসেছি। ছেলের জন্য ছবি আঁকার বই কিনেছি।’

এবারের মেলার শিশুপ্রহরে মূল আকর্ষণ কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের গল্পপাঠের আসর। সকাল থেকে এখানে বিভিন্ন গল্প শোনানো হয় শিশুদের। এর সঙ্গে ছিল পুতুলনাট্য। বাঘ সেজে শিশুদের সঙ্গে আনন্দে মাতে পুতুল।

বাচ্চাদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’ এর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক। তিনি বলেন, “আমরা চাই, বাচ্চারা যাই শিখুক, যেন আনন্দ নিয়ে শেখে; আনন্দহীন শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। বাচ্চারা গল্পের মাধ্যমে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা, পারস্পারিক বন্ধুত্ব, পারস্পারিক সৌহার্দ্যবোধ ও সহমর্মিতা গড়ে উঠবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার'।

ধানমন্ডি থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসেন আনিস আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “আমি ব্যাংকে চাকরি করি। সন্তানদের নিয়ে বেরিয়েছি। মেলায় ঘুরে বিকালে মার্কেটে যাব ঈদের কেনাকাটা করতে। এরপর বাইরে ইফতার করে রাতে বাসায় ফিরব।”

বইমেলায় শিশুদের জন্য এবার আলাদা করে চত্বর করা হয়নি। মেলার একটি অংশে শিশুদের প্রকাশনার জন্য স্টল সাজানো হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমি ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শিশু-কিশোরদের জন্য ভালো মানের বই এনেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে শিশুদের জন্য বই বের করা কিছু প্রতিষ্ঠানও ভালো বই এনেছে। আবার কিছু বইয়ে রঙচটা প্রচ্ছদে আকর্ষণ করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর সেন্ট যোসেফ স্কুলের শিক্ষার্থী অরিন্দম সাহা মেলায় এসে বই কেনার পাশাপাশি একটা মুখোশও কিনেছে। অরিন্দম জানান, বইমেলায় এসে তার খুব ভালো লাগছে।

প্রকাশনা সংস্থা দোলনের স্বত্বাধিকারী কামাল মোস্তফা বলেন, “আমরা এবার কয়েকটি নতুন বই এনেছি। আর আগে প্রকাশিত বইও আছে আমাদের স্টলে। ছোটরা এসে মেলায় ঘুরছে, বই কিনছে।”

সূত্র : বিডিনিউজ

এলাকার খবর

সম্পর্কিত