তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে আত্মপ্রকাশ করল নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাজনূভা জাবীন। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দেশের তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার করা এবং দায় ও দরদের বাংলাদেশ গড়ার জন্য সারাদেশের ছাত্র- নাগরিকদেরকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভস আজ ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করেছে।”
কমিটির অন্যরা হলেন—আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ ও হাসান আলী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নবগঠিত এই কমিটির সদস্যরা সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনীতি-সচেতন তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা, জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও নীরবে থাকা সক্রিয় আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে একটি দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনকে সারা দেশে বিস্তৃত করা।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে অল্টারনেটিভস বলছে, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে সংগঠিত করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ভোটের তফসিল ঘোষণার আগের দিন, গত ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এরপর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের কথা চাউর হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ভোটের মাঠে দেখা যায়নি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানো মাহফুজ ভোটের মাসখানেক পর ‘অল্টারনেটিভস’র মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে ফের সরব হলেন।
আর নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমঝোতার খবরের মধ্যে গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
তখন তিনি বলেছিলেন, “ভেবেছিলাম, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আমি পদত্যাগ দেবো। শেষ আশাই ছিলাম। কিন্তু গতকাল সবাই নিশ্চিত করেছে এই জোটে সীল পরেছে। আর আবারও বলি, আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ।”