বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা

বিশ্বঋণ ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার, সুদের চাপে চাপে বাড়ছে জনজীবনের সংকট

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০
 ছবি:

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে, ফ্রান্সে ঋণ নেওয়ার খরচ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে

বিশ্ব অর্থনীতির আকার বাড়ছে, বাড়ছে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের চাহিদা। কিন্তু সেই সঙ্গে ঋণের বোঝাও ফুলে উঠছে। আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ঋণের পরিমাণ নতুন রেকর্ড গড়ে ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ঋণ বেড়েছে ১০ লাখ কোটি ডলারের বেশি। এর বড় অংশ এসেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো থেকে। তবে উন্নত দেশগুলোর উচ্চ সরকারি ঋণ, বাজেট ঘাটতি ও বাড়তে থাকা সুদের ব্যয়ও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত *গ্লোবাল ডেট মনিটর* প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ শেষে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণ ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে শুধু সরকারের ঋণ নয়, পরিবার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণও রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১১ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরে বিশ্ব যত পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে, মোট ঋণের পরিমাণ তার প্রায় তিন গুণেরও বেশি।

ঋণের এই পরিসংখ্যান সামনে আসার সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি, বাড়িভাড়া ও আবাসনের মূল্য এবং সরকারি সেবায় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ফ্রান্সে সরকারি অর্থব্যবস্থার দুর্বলতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পেনশন ও অবকাঠামোর মতো খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়। ফলে ঋণসংকট শুধু অর্থনীতির হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনেও।

ঋণ কীভাবে বাড়ছে
সরকার সাধারণত বাজেট ঘাটতি মেটাতে, পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে এবং উন্নয়ন ও জনসেবার ব্যয় চালাতে অর্থ ধার করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার বন্ড বা ঋণপত্র বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। বিনিময়ে নির্ধারিত সুদ দেওয়ার এবং মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকে।

কোনো সরকার যখন আয়কর ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে যত অর্থ পায়, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে, তখন ঘাটতি মেটাতে নতুন ঋণের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি চলতে থাকলে ঋণের মোট পরিমাণ বাড়ে। আবার পুরোনো ঋণের মেয়াদ শেষ হলে তা পরিশোধ করতে নতুন ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে। একে বলা হয় ঋণ পুনঃঅর্থায়ন।

কেবল ঋণের মোট অঙ্ক দেখেই অবশ্য কোনো দেশের আর্থিক অবস্থা বিচার করা যায় না। দেশের অর্থনীতির আকার, রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, ঋণের সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা এবং কোন মুদ্রায় ঋণ নেওয়া হয়েছে—সবই গুরুত্বপূর্ণ। একই পরিমাণ ঋণ বড় ও শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য সামলানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে, কিন্তু ছোট অর্থনীতি বা কম রাজস্ব আদায়কারী দেশের জন্য তা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইআইএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বঋণ বেড়েছে ১০ লাখ কোটি ডলারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশের জন্য দায়ী। এই প্রবণতার পেছনে একক কোনো সংকট নেই; বরং স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের চাহিদা এবং সরকারের ঋণনির্ভর অর্থায়ন ভূমিকা রাখছে। 

সরকারি ঋণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর চীন
সরকারি ঋণের পরিমাণ ও জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত এক বিষয় নয়। মোট ঋণের অঙ্কে বড় অর্থনীতি এগিয়ে থাকতে পারে; কিন্তু অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের বোঝা বেশি হতে পারে অন্য কোনো দেশে। এ কারণে ঋণের ঝুঁকি বুঝতে দুই ধরনের হিসাবই দেখা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বিশ্বের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। দেশটির ডলারে ঋণ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে, কারণ ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সরকারি বন্ডও বিশ্ববাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগমাধ্যম। তবে এ সুবিধা ঋণ নেওয়ার সীমাহীন ক্ষমতা দেয় না। বাজেট ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং সুদের ব্যয় বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থব্যবস্থাতেও চাপ বাড়ে। আইএমএফের ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির সাধারণ সরকারের মোট ঋণ জিডিপির ১২৫ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০৩১ সালে তা ১৪১ শতাংশ ছাড়ানোর পূর্বাভাসও রয়েছে।

চীনও বিশ্বঋণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালক। দেশটির ঋণের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের ঋণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো, আবাসন ও শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের ঋণনির্ভর বিনিয়োগ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, আবাসন খাতের দুর্বলতা এবং স্থানীয় সরকারের আর্থিক চাপ দেশটির অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। চীনের মোট ঋণের হিসাবের সঙ্গে সরকারি ঋণের হিসাব এক করে দেখা যাবে না; কোন খাত অন্তর্ভুক্ত, তার ওপর অঙ্কের পার্থক্য হয়।

জাপানের সরকারি ঋণও অর্থনীতির আকারের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক ব্যয় এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধি ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে। তবে জাপানের ঋণের বড় অংশ নিজস্ব মুদ্রা ইয়েনে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে থাকায় এর ঝুঁকি অন্য দেশের ঋণসংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিও উচ্চ ঋণ ও সুদের ব্যয়ের চাপে রয়েছে। ফ্রান্সের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০২৬ সালে ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বলে আইএমএফের তথ্য নির্দেশ করছে। একই সময়ে দেশটির বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ, ঋণের বোঝা বড় হওয়ার পাশাপাশি সরকারের আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও উদ্বেগের কারণ। 

ফ্রান্সে ঋণের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ
ঋণসংকটের চাপ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সরকারি বন্ডের ফলন বা ইল্ড। বিনিয়োগকারীরা সরকারকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে যে বার্ষিক ফলন প্রত্যাশা করেন, তা বন্ডের বাজারদর, সুদের হার ও ঋণদাতাদের আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। বন্ডের দাম কমলে সাধারণত তার ফলন বেড়ে যায়। নতুন ঋণ নেওয়ার সময় সরকারকে তখন তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হতে পারে।

২১ অক্টোবরের বাজারতথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশে পৌঁছেছে। একই দিনে জার্মানির ক্ষেত্রে এ হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ফলন ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ফ্রান্সের ঋণের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার খবরও এসেছে।

ফ্রান্স ও জার্মানির সুদের হারের এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই ইউরো ব্যবহার করলেও বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণকে জার্মানির তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ফরাসি বন্ডে বেশি ফলন দাবি করতে পারেন। বাজেট ঘাটতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এ ব্যবধান বাড়াতে পারে।

তবে বন্ডের ফলন বাড়লেই সরকারের বিদ্যমান সব ঋণের সুদ সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় না। পুরোনো স্থির সুদের ঋণে সাধারণত নির্ধারিত শর্ত বহাল থাকে। কিন্তু নতুন ঋণ এবং মেয়াদ শেষে পুনঃঅর্থায়নের সময় বেশি সুদ দিতে হলে ধীরে ধীরে সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়ে। বড় ঋণের দেশে এই চাপ আরও স্পষ্ট হয়, কারণ বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়মিত নবায়ন করতে হয়।

ঋণের সুদে কমে জনসেবার অর্থ
সরকারের বাজেটে সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশনের মতো খাতে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সরকার চাইলে কর বাড়িয়ে আয় বাড়াতে পারে, ব্যয় কমাতে পারে অথবা আরও ঋণ নিতে পারে। কিন্তু প্রতিটি পথেরই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে।

কর বাড়ালে পরিবার ও ব্যবসার হাতে ব্যয়যোগ্য অর্থ কমতে পারে। সরকারি ব্যয় কমালে জনসেবার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা সামাজিক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণের সুদ মেটাতে থাকলে ঋণের বোঝা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায় ঋণের তুলনায় দ্রুত না বাড়লে পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে জটিল হতে পারে।

আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬-এর ফিসকাল মনিটর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশে উঠেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সাল নাগাদ তা ১০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সামাজিক চাহিদা, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিনিয়োগের ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়তি সুদের চাপও সরকারি অর্থব্যবস্থাকে দুর্বল করছে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

৩৬৫ লাখ কোটি ডলারের ঋণ মানেই কি বিশ্ব দেউলিয়া
বিশ্বের মোট ঋণকে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সমান ভাগে ভাগ করলে মাথাপিছু অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগতভাবে ওই পরিমাণ ঋণ রয়েছে। এটি সরকার, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ঋণকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া একটি তুলনামূলক হিসাব।

আরেকটি বিষয় হলো, ঋণ সব সময় ক্ষতিকর নয়। উৎপাদনশীল অবকাঠামো, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ঋণ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতের আয় ও উৎপাদন বাড়াতে পারে। সমস্যা দেখা দেয় যখন ঋণ নেওয়া অর্থের ব্যবহার থেকে প্রত্যাশিত আয় আসে না, ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসে কিংবা সুদের ব্যয় রাজস্বের বড় অংশ গ্রাস করতে থাকে।

বিশ্বঋণের মোট পরিমাণ জিডিপির তুলনায় এখনও মহামারির পরবর্তী সর্বোচ্চ অনুপাতের নিচে—আইআইএফের হিসাবের ভিত্তিতে এমন বিশ্লেষণও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ঋণের অনুপাত কম থাকা মানেই ঝুঁকি কমে যাওয়া নয়। মূল্যস্ফীতি নামমাত্র জিডিপি বাড়িয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কম দেখাতে পারে; একই সময়ে সুদের হার বেড়ে গেলে নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ে। ফলে ঋণের অনুপাত কিছুটা কমলেও সরকারের নগদ অর্থের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা
বাংলাদেশের ঋণের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ফ্রান্সের মতো উচ্চ ঋণ-জিডিপি অনুপাতের দেশের সঙ্গে এক নয়। তবে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা এবং ঋণ পরিশোধে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান—এসব বিষয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

আইএমএফের ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বাংলাদেশের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরের শেষে দেশের মোট সরকারি ও সরকার-নিশ্চিত ঋণ ছিল জিডিপির প্রায় ৪১ শতাংশ, যার পরিমাণ ১৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের অংশ ছিল ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও অন্যান্য ঋণসেবা ব্যয় জিডিপির ৪ দশমিক ২ শতাংশের সমপরিমাণ ছিল; বৈদেশিক ঋণসেবা ব্যয় ছিল জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ।

ঋণ-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলক কম হলেও রাজস্ব আদায় দুর্বল হলে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বাজেটের ওপর চাপ বেশি পড়তে পারে। বিশেষত বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ডলারের প্রয়োজন হয়। রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে ডলারপ্রাপ্তি যথেষ্ট না হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশের জন্য ঋণের অঙ্কের পাশাপাশি ঋণ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, প্রকল্প থেকে কতটা অর্থনৈতিক সুফল আসছে, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি কেমন এবং রাজস্ব আদায় কতটা বাড়ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি বা প্রত্যাশিত আয় না এলে ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত করদাতা ও সাধারণ মানুষের ওপরই চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বের বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি তাই অবধারিত বৈশ্বিক দেউলিয়াত্বের পূর্বাভাস নয়; বরং অর্থনৈতিক নীতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সতর্কসংকেত। যে দেশ ঋণ নিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করতে এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, তার পক্ষে এই চাপ সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে। বিপরীতে, ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করে ধারাবাহিকভাবে ঘাটতি মেটাতে নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে সুদের বোঝা একসময় উন্নয়ন ও জনসেবার জায়গা সংকুচিত করে ফেলতে পারে।

১

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, ৫ মাসে সর্বোচ্চ

২

এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না: রেজায়ি

৩

এবার পার্বত্য রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা

৪

বিএনপি নেতার ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে ১৮ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ

৫

সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি

৬

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ

৭

অসুস্থ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ভূমি মন্ত্রী দেখতে হাসপাতালে গেলেন রিজভী

৮

‘আ.লীগের সঙ্গে ৯৬’র মতো আবারও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জোট করেছে জামায়াত’

৯

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন

১০

উত্তরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধানে কৃষকের মুখে হাসি

১১

সুন্দরগঞ্জের বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই অসুস্থ, চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত

১২

দেড় মিনিটের বক্তব্যে ২৫ বার ‘স্যার’, আলোচনায় ইউএনও তানজিলা

১৩

সাজেকে ইউপিডি এফ- এর সাথে গোলাগুলির মধ্যে আটকে পড়া ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার

১৪

আইনের শাসন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ, পিছিয়ে পাকিস্তান

১৫

আ.লীগের সঙ্গে জামায়াত একাকার, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত