যে দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। আল্লামা সাঈদীর মতো বিশ্ববরণ্যে মুফাসসিরে কোরআনকে শোয়ার জন্য একটা বিছানায় জায়গা দেয় নাই। কয়েকটা তোশক বিছিয়ে উঁচু করে তাকে বসার এবং শোয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই জালিম আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে, এটা বাংলাদেশের কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলার একটি পার্কের কমিউনিটি সেন্টারে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলা শুরু করে দিয়েছেন, কেন বলতেছেন? উনি বিগত নির্বাচনে এই শক্তির কাছ থেকে সমর্থন নিয়েছেন, যেটা শামীম ওসমান সাহেব ফাঁস করে দিয়েছে। আর রেজওয়ানা হাসানের বক্তব্য শোনেন নাই? তিনি তো প্রকাশ্যেই বলছেন যে, জামায়াতে ইসলামীকে আমরা মূল জায়গায় আসতে দেইনি। উনি তো মাইকে বলছেন, উনি উপদেষ্টা ছিলেন এবং উনি মিডিয়ার সামনে দাঁড়াইয়া বলছেন, এমন না যে বেহুঁশ, ঘুম থেকে উইঠা বলছেন।
মতিউর রহমান বলেন, সুতরাং এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়, উনি একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ভিত্তিতে, একটি সমঝোতার মাধ্যমে, একটি শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে, তিনি ভোটকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন। তাদের ইশারা আজকে তারা কথা বলছেন। উনি যেহেতু আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চান, দোষ চাপাতে চাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর উপরে।
বাংলাদেশের জিডিপি কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সাড়ে ছয় পার্সেন্ট ধরেছে, আর বিশ্বব্যাংক বলছে ৩.১ এর বেশি হবে না। কর্মসংস্থান নাই, উৎপাদন নাই, বিনিয়োগ নাই, কলকারখানা বন্ধ, গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই। ফলে সারকারখানা বন্ধ। দেশের অবস্থা খুব খারাপ। এই সরকার যখন দেখছে, আগামী দিন একটা গণবিদ্রোহ হবে, আর এই গণবিদ্রোহ হওয়ার আগেই উনারা এখন বলা শুরু করছেন যে আওয়ামী লীগ আর জামায়াতে ইসলামী নাকি একসঙ্গে হইয়া তাদের বিরুদ্ধে লাগছে। আপনারা কী করেন? আপনারা আওয়ামী লীগকে ধরতে পারেন না। ধরেন না কেন? কুড়ি জনের ফাঁসি হয়েছে, একটা ফাঁসিও তো আপনারা কার্যকর করেন নাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লং মার্চ ঘোষণা করেছে, সাতটি দফা, সাত দফার কোথাও সরকার পতনের আন্দোলন নাই। তাহলে এত ভয় কেন আপনাদের? শুধু আমিরে জামায়াত একবার বলেছেন যে যদি দাবি মেনে নেওয়া না হয়, সাত দফা এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে, তাদের মস্তক কাঁপা শুরু হয়ে গেছে। উনারা এখনো বোঝেন নাই, আগের দিন আর এই দিন এক নয়। কারণ আগে আপনারা কর্মসূচি দিয়া পালাই যাইতেন। আর এখনকার তরুণ জেনারেশন আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করেছে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর ভাপতিত্বে সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অধ্যক্ষ মো. তৈয়বুজ্জামান ও মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ারী থানার আমির মাহবুবুর রহমান মাহফুজ প্রমুখ।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যের পর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি সভাপতির আসন ছেড়ে রুকনদের সারিতে বসেন।
পরে জেলার আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন গোপন ব্যালটে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাজী সাইফুল্লাহ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম ও মাওলানা এস এম ইউসূফ।