গ্রামের একটি মাদ্রাসায় হিসাব রক্ষকের চাকরি করা বাবার সন্তান আফজাল রহমান। সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসে কুমিল্লার সোনার বাংলা কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে এবার অর্জন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড। তার এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দ ও গর্বের আবহ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আফজাল রহমানের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আফজাল রহমান কুমিল্লার সোনার বাংলা কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ (অনার্স) হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তার মার্কশিট অনুযায়ী, তিনি ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চার বছরের শিক্ষাজীবনে মোট ১২৪ ক্রেডিট সম্পন্ন করেন। তার অর্জিত CGPA ৩.৭৯।
চার বছরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করেছেন আফজাল। প্রথম বর্ষে ২৪ ক্রেডিটে তার GPA ছিল ৩.৮৮, দ্বিতীয় বর্ষে ২৮ ক্রেডিটে ৩.৭৫, তৃতীয় বর্ষে ৩২ ক্রেডিটে ৩.৭৫ এবং চতুর্থ বর্ষে ৪০ ক্রেডিটে ৩.৮০। মার্কশিটে দেখা যায়, চার বছরেই অধিকাংশ বিষয়ে তিনি A এবং A+ গ্রেড অর্জন করেছেন।
তার বাবা মো. মোখলেসুর রহমান একটি গ্রামের মাদ্রাসায় হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত। সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে উচ্চশিক্ষায় এমন সাফল্য অর্জন করায় আফজালের এই পুরস্কারকে পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আফজালের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর নাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আফজালের সাফল্যের গল্পটি শুধু একটি পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা নয়; এটি প্রত্যন্ত ও সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার গল্প। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব,আফজালের অর্জন যেন তারই উদাহরণ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া এই অ্যাওয়ার্ড আফজালের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে থাকবে। বাবার সীমিত আয়ের সংসার থেকে শুরু করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে ভাইস-চ্যান্সেলরের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ,আফজালের এই যাত্রা এখন তার পরিবারের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের কাছেও গর্বের বিষয়।