আন্তর্জাতিক

সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে ৮২ জনের প্রাণহানি

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯
 ছবি:

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা আরও অনেকে; আহত ৫০, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। ধসে পড়া খনির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চললেও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তা ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পশ্চিম করদোফান এলাকায় আল-জারা নামের একটি অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণের খনিতে মঙ্গলবার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কয়েক ডজন ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শ্রমিক ভূগর্ভে কাজ করার সময় হঠাৎ সুড়ঙ্গগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২টি মরদেহ বের করে আনা হয়। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক খনি শ্রমিক এএফপিকে বলেন, ‘আমরা জানি না, ভেতরে আর কতজন আছে।’ সহকর্মীদের সঙ্গে সারা রাত উদ্ধারকাজ চালানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বর্ণ উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রাথমিক সরঞ্জাম দিয়েই মাটি ও পাথর সরানোর চেষ্টা চলছে।

তাঁর ভাষ্য, মরদেহ কিংবা জীবিত কাউকে উদ্ধারে শ্রমিকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কিন্তু পাথর ও মাটি সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক খনি শ্রমিক আল আমিন সুলাইমান বলেন, আল-জারা খনির সুড়ঙ্গগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে আশপাশের অন্য সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁর মতে, এবারও একইভাবে একাধিক সুড়ঙ্গ ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে মাটির নিচে আটকা রয়েছেন এবং তাঁদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।

সুদানে স্বর্ণ খনিতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক ও পরিত্যক্ত খনিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রকৌশলগত তদারকি ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব খনিতে কাজ করা শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

সুদানের স্বর্ণ উৎপাদনের বড় একটি অংশ আসে ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনি থেকে। অনেক শ্রমিক হাতে এবং প্রাথমিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি ও পাথর খুঁড়ে স্বর্ণের কণা সংগ্রহ করেন। এসব খনির অনেকগুলোই বড় ও অরক্ষিত গর্ত বা পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গকেন্দ্রিক। আয়ের সীমিত সুযোগের কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

স্বর্ণ আলাদা করার প্রক্রিয়াতেও রয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। খনি শ্রমিকেরা অনেক ক্ষেত্রে পারদ ও সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এসব রাসায়নিক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুদানের শোষণমূলক স্বর্ণের বাণিজ্যে ব্যবহারের অভিযোগে পারদ ও সায়ানাইডের বিক্রি, স্থানান্তর ও রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যে ব্যবহৃত বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাণিজ্য দুই পক্ষের অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদক সুদান। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত স্বর্ণের বড় একটি অংশ বৈধ চ্যানেলের বাইরে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হয়ে যায়।

যুদ্ধের আগেও দেশটির ক্ষুদ্র পরিসরের স্বর্ণ খনিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাতের কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ায় অনেক তরুণ এখন অনিরাপদ ও অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশেষ করে সম্পদসমৃদ্ধ বৃহত্তর করদোফান অঞ্চলে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক খনির সংখ্যা বেশি। এসব স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রতিদিন কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করেন। খনির কাঠামোগত দুর্বলতা, মাটি ধসের ঝুঁকি এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাব—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।

আল-জারার দুর্ঘটনা সেই ঝুঁকিরই ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। ৮২টি মরদেহ উদ্ধারের পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করতে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কার্ডে বাড়ছে লেনদেন, পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধি ১০৮ শতাংশ

জাকির নায়েকের বাড়িতে আজহারী, বিদায়ের আগে পেলেন ‘কিসওয়াতুল কাবা’ আতর

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কী উদ্যোগ, জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি

প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান-পদায়নে সুখবর

সৌদির অনুরোধের পর ইরানকে হুতিদের থামাতে বলেছে বেইজিং

সারাদেশে একযোগে ৯৯ জন বিচারক বদলি

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পাভেলের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আলোচনা

দীঘিকে এড়িয়ে গেলেন তথ্যমন্ত্রী, জয় বললেন—পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার দিন শেষ

হকির আরেকটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

১০

চরিত্রের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবন অনুভব করতে চান রুনা খান

১১

চীনের নতুন জলপথে বদলে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের সংযোগ-মানচিত্র

১২

ঋতুপর্ণাদের ফিরিয়েও হাফডজন গোলে হার বাংলাদেশের

১৩

নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান

১৪

ওসির অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটি, জিজ্ঞাসাবাদ

১৫

২৫ কোটি বাজেটে ৩১০ কোটি আয়, ইতিহাস গড়ল ‘অসম প্রেমের’ সিনেমাটি

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত