শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে অবরুদ্ধ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সিন্ডিকেটের ১৫ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ছয়জন। বাকি নয়জন অনুপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ সিন্ডিকেটে মোট ১৭টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য। ফলে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ১৫। সভায় উপাচার্য ছাড়া সিন্ডিকেটের অন্য ছয় সদস্যের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সভায় একাডেমিক অচলাবস্থা নিরসন, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে গত ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে যান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেন। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন উপাচার্য। সেখান থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন তিনি।
সিন্ডিকেটের সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান সভায় উপস্থিত না থাকার বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামের বাইরে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারেননি। উপাচার্য হোয়াটসঅ্যাপে জুম সভার লিংক পাঠিয়ে তাঁকে সভার বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রাশিদুল হাসান বলেন, তিনি দুই বছর ধরে সিন্ডিকেটের সদস্য। এর আগে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা হওয়ার নজির তাঁর জানা নেই।
সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে সভার আলোচ্যসূচি ও তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় মোট ছয়জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্যের লিখিত বার্তায় বলা হয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবি পর্যালোচনা করে একাডেমিক অচলাবস্থা দূর করা এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর রূপরেখা নির্ধারণ ছিল সভার আলোচ্যসূচি।
সভায় চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সেশনজটের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্রুত নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে ফেরার আহ্বান জানানো হয়।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অচলাবস্থা নিরসন ও দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে একটি ‘নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।
এদিকে, সিন্ডিকেটের সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীনকে ফোন করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, নিয়োগ পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পরে সিন্ডিকেট সভা নিয়ে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি আর মন্তব্য করেননি।
সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।