জেলার সীমানা ছাড়িয়েছে মুন্সিগঞ্জের চারা

মুন্সিগঞ্জে প্রতি মৌসুমে বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯
 ছবি:

শীতের সবজি মাঠে ওঠার আগেই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের বীজতলাগুলো। বাঁশের চাটাইয়ের আড়ালে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ নানা জাতের সবজির চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের কাছে। চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের মৌসুমে মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন হয়। এসব এলাকায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করে উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ব্যবসার পরিধি বেড়েছে এবং জেলার বাইরেও মুন্সিগঞ্জের চারার বাজার তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ, কেপিবাগ ও সিকদার বাড়ি এলাকায় দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ নতুন বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত। চাটাইয়ের নিচে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা বেড়ে উঠছে।

মুন্সিগঞ্জে প্রতি মৌসুমে বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা

সিকদার বাড়ি এলাকার চারা চাষি আতিক হাসান বলেন, ৫০ শতক জমিতে তাঁর প্রায় ৫০টি বীজতলা রয়েছে। এক মৌসুমে প্রতিটি বীজতলায় তিন দফায় চারা উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। আতিক হাসান বলেন, চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকেরা মোটামুটি একই ধরনের দামে চারা বিক্রি করেন। তবে ভালো জাত ও মানসম্মত চারার চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিও ভালো হয়।

মুন্সিগঞ্জের চারার চাহিদা এখন জেলার সীমানা ছাড়িয়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এখান থেকে চারা কিনে নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের তথ্যেও জেলার চারার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বাজার থাকার কথা বলা হয়েছে।

চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার আগে থেকেই এ অঞ্চলে সীমিত পরিসরে চারা উৎপাদন ও বিক্রি হতো। প্রথমদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এসব চারা বিক্রি করা হলেও গত দুই দশকে ব্যবসাটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। কৃষকেরা খৈল, জৈবসার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার শুরু করেন। এতে মুন্সিগঞ্জের চারার মান ও চাহিদা দুটিই বাড়ে।

কৃষকদের দাবি, বর্তমানে পঞ্চসার, বজ্রযোগিনী ও রামপাল এলাকায় ছোট-বড় দেড় শতাধিক চারা উৎপাদনের প্রকল্প রয়েছে। এর বড় অংশ পঞ্চসার এলাকায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দিকে বিক্রি বাড়তে থাকে এবং কয়েক দফায় উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

সিকদার বাড়ি এলাকার চারা ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, মুন্সিগঞ্জের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি বীজের দাম এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব বীজ থেকে উৎপাদিত চারা দিয়ে কৃষকেরা ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুন্সিগঞ্জের চারার চাহিদা রয়েছে।

তবে এই ব্যবসায় আয় যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও কম নয়। লিটন শিকদার বলেন, প্রতি মৌসুমে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। কোনো বছর খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়, আবার কোনো বছর লাভ কমে যায়। তারপরও বংশপরম্পরায় তাঁরা এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

চারা উৎপাদনে সময়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই অনেক চারা বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি করতে না পারলে চারার মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে। অতিরিক্ত রোদ, বৃষ্টি কিংবা বীজতলায় পানি জমে গেলে চারার ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে দিনের তীব্র রোদ ও বৃষ্টির সময় বাঁশের চাটাই দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা হয়। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সকালে ও বিকেলে চাটাই সরিয়ে আলো-বাতাস দেওয়া হয়।

বাবু দেওয়ান নামের এক শ্রমিক বলেন, চারা উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। অঙ্কুরিত হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চারা বিক্রি করতে হয়। পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও চাটাই দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার কাজেও বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

চারা চাষিদের বড় উদ্বেগ এখন আবহাওয়া। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হলে একদিকে চারার ক্ষতি হয়, অন্যদিকে জমিতে সবজি আবাদ পিছিয়ে যাওয়ায় চারার চাহিদাও কমে যেতে পারে।

কেপিবাগ এলাকার কৃষক স্বপন দেওয়ান বলেন, সবজি উৎপাদনের তুলনায় চারা উৎপাদন তাঁদের কাছে বেশি লাভজনক। প্রতিবছর তিন থেকে চার মাস এই ব্যবসায় সময় দেন তাঁরা। এই সময়ের আয় দিয়েই পরিবারের সারা বছরের বিভিন্ন খরচ, বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় চালানো সম্ভব হয়।

স্বপন দেওয়ান বলেন, গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে তাঁদের চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি বেশি হলে কৃষকেরা জমিতে সবজি আবাদে দেরি করতে পারেন। তখন বিক্রির উপযোগী অনেক চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তাঁরা।

একই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এবার সার ও বীজের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এখনো পুরোদমে চারা বিক্রি শুরু হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সদর উপজেলায় চারা উৎপাদন কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক কৃষি খাতে পরিণত হয়েছে। পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন, যারা শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর উন্নত ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় মুন্সিগঞ্জের চারার প্রতিষ্ঠিত বাজার রয়েছে এবং চাহিদাও ব্যাপক। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমি থেকে চারা বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করছেন চাষিরা। নিয়মিত চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।

১

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে ‘গর্বিত’ ট্রাম্প, বললেন শির সঙ্গে চমৎকার বৈঠক

২

‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’—সালথার ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

৩

এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ, আহত ৮

৪

মুন্সিগঞ্জে প্রতি মৌসুমে বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা

৫

গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা

৬

২৩ বছর ৯ মাস পর খোলা আকাশ দেখল মিঠু, চার বছর বেশি সাজা খাটার আক্ষেপ

৭

জাতিসংঘে মামদানিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ নেতানিয়াহুর

৮

থানার দরজা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ১৭ কিশোরের, যা বলছে পুলিশ

৯

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, হোয়াইট হাউসে ফিরল সেই তিন গণমাধ্যম

১০

ফরিদপুরে সেই এনসিপি নেতা শাহেদের কারখানায় ফের অভিযান

১১

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

১২

বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

১৩

লালমনিরহাটে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা আটক

১৪

ক্ষেপণাস্ত্রে চড়ে মস্কো যাবেন জেলেনস্কি!

১৫

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে : জামায়াত আমির

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত