চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে ঝিল খনন এবং জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে মাটি কাটার একটি ভেকু মেশিন জব্দ করা হয়। ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র কৃষিজমি দখল করে ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করেছে। এসব জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখল ও মাটি কাটার কাজে বাধা দিতে গিয়ে জমির মালিকদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব জমিতে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রের কারণে তাঁরা জমি ভোগদখল করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি চক্র তাঁদের জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করেছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা ও সম্পত্তির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর অভিযোগ, মুখদ্দি এলাকায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর জমি রয়েছে। ওই জমিতে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, প্রায় ৪০০ একর জমিতে একটি চক্র ঝিল খনন করে আসছিল। এর আগে প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু মেশিন নষ্ট করা হলেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা ও নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
অভিযানে উপস্থিত চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাংবাদিকদের বলেন, একটি চক্র আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলে তারা আবারও একই কাজে ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাবে। এ কাজে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকারি বিধিবিধান মেনে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং যুবদলের নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিজমি দখল, মাটি কেটে বিক্রি এবং জমির মালিকদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত দায় নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে, কৃষিজমি রক্ষা এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।