খুলনা নগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে থানায় গিয়ে স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার মাস আগের একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের বাড়ির উঠোন খুঁড়ে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার দুপুরে নগরীর হরিণটানা এলাকার একটি বাড়ির উঠোন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৩০ বছর বয়সী বাড়ির মালিক ও তার ২২ বছর বয়সী স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া নারী আগে যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সূত্রেই কয়েক মাস আগে বাড়ির মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় তিনি আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক ব্যক্তিকে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে খাবারের সঙ্গে অচেতনকারী কিছু খাওয়ানোর পর স্বামী-স্ত্রী মিলে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির সামনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বাড়িটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন ছিল।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রী থানায় এসে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাড়ির উঠোন থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে চাপা থাকায় মরদেহের অধিকাংশ অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইক চালক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এর আগে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি বা অভিযোগও থানায় পাওয়া যায়নি।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ইজিবাইকের নম্বরপ্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। সেটির সূত্র ধরে খুলনা সিটি করপোরেশনের নথিপত্র যাচাই করে জানা গেছে, নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেন।
ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তি মারুফ নামের কেউ হতে পারেন কিংবা অন্য কেউ হতে পারেন। তার পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।