কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামিকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া আদালত পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ।
এর আগে ভুক্তভোগী শিশুটির মা স্কুল কর্মচারী হামিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে মিরপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ মোড়ানো এবং আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।
শিশুটিকে ধর্ষণের পর তালাবদ্ধ কক্ষে আটকে রাখায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় স্কুলের অফিস সহায়ক হামিদুল ইসলামকে। শুক্রবার বিকালে আটক হামিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে শিশুটির মায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনার বর্ণনায় ওই ছাত্রীর দাদি বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আমার নাতনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। দুপুরে সব বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসলেও নাতনি না ফেরায় আমি আশেপাশে অন্যান্য বাচ্চাদের কাছে তার কথা জিজ্ঞাসা করি। সব বাচ্চারাই বলে, আমরা সবাই তো একসঙ্গেই স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও না পেয়ে নাতনির সহপাঠীরা বিকালের দিকে স্কুলে যায় খোঁজ করতে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলের দপ্তরি হামিদুলকে তালা খুলে দিতে বললে তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তারা বাড়ি ফিরে যায়। এরপর রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা আবার স্কুলে গিয়ে দপ্তরি হামিদুলের কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। সেখানে নিচতলায় স্যান্ডেল, দোতলায় স্কুল ব্যাগ এবং তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো আহত অবস্থায় আমার নাতনিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।'
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন তারা। বর্তমানে শিশুটি গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।