- মোখায় হুতিপন্থী সাবার দাবি; আহত ৮, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। মঙ্গলবার হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা সাবা এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হতাহতের এই তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ছয়জনের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। আহত আটজনের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। হামলাটি ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলের মোখা এলাকায় চালানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের অগ্রগতির মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। এতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রোববারের ওই ফোনালাপে বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে চারটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। আল-আলিমি তাঁর সৌদি-সমর্থিত সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইলেও ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সেই অনুরোধে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলায় সম্মতি দেননি।
অন্যদিকে সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, সৌদি বিমানগুলোকে সহায়তার জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্স আকাশে জ্বালানি সরবরাহ বা এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং সুবিধা দেবে। প্রাথমিকভাবে কয়েক সপ্তাহ এই সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কারণে বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। লোহিত সাগর থেকে সুয়েজ খালমুখী আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এই প্রণালি। ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সংঘাতের বিস্তার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর গৃহযুদ্ধ তীব্র হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটিতে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের পর ইয়েমেনে সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কমে এলেও চলতি বছর হুতিদের নতুন সামরিক অগ্রগতির পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চল এবং বাব আল-মান্দাবের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলা ও হুতিদের পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। মোখায় সর্বশেষ হামলায় বেসামরিক হতাহতের খবর সেই উত্তেজনারই আরেকটি ঘটনা। তবে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।