ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর আউটলুক ইন্ডিয়া ও পিটিআইয়ের। গত বৃহস্পতিবার লেখা চিঠিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনির পানির সংকটকে কেবল পৌর পরিষেবার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি বাসিন্দাদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রশ্ন।
চিঠিতে সমীরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর কলোনিটির পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর দাবি, ওই এলাকার বাসিন্দারা মুসলিম হওয়ায় এবং ক্ষমতাসীন দলের তথাকথিত ভোটব্যাংকের অংশ না হওয়ায় তাঁদের এ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের পেছনে ধর্মীয় বৈষম্য কাজ করেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত থাকা কোনো সাধারণ নাগরিক পরিষেবার সমস্যা নয়। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থার সুযোগ মানুষের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। এ ধরনের সংকট বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও উপযুক্ত জীবনযাপনের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন, জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। তাঁরা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য পানীয় জল পাওয়ার অধিকার চাইছেন।
পানির দীর্ঘস্থায়ী সংকট জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে চিঠিতে সতর্ক করেছেন সমীরুল ইসলাম। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ পানির অভাবে সংক্রামক রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলকাতার উত্তরাঞ্চলের জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি মোল্লাপাড়া নামেও পরিচিত। গত ২৯ জুলাই থেকে সেখানকার পাঁচটি সরকারি পানির কল দিয়ে নিয়মিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে আগের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। সংকট মোকাবিলায় বাসিন্দাদের অনিয়মিত পানির ট্যাংকারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে; কেউ কেউ গঙ্গার পানিও ব্যবহার করছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জ্যোতিনগর কলোনিতে কেন দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা কী এবং ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য।
তবে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণেও এসব তথ্য প্রয়োজন।