৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম পর্যায়ের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ পড়া আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ৫ অক্টোবর ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর নিয়োগ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে এ বিসিএসে ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ ও নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকায় তাঁদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাদ পড়া কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ওই ৫৭ জনের সবাই নিয়োগ থেকে বাদ পড়েননি। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায় ছিলেন ৪৬ জন। তাঁদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর প্রকাশ করা হতে পারে বলে গত ১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।
সোমবার রাতে সেই ধারাবাহিকতায় ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলো। এর ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনের পর নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ নিয়োগের সুযোগ পেলেন। তবে বাকি ছয়জনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া এবং সেই যাচাইয়ে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হবে না। তবে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে একজন-দুজন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়তে পারেন।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার পর সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। গত ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই কারণে বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হবে না। তিনি বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রজ্ঞাপন একবারেই শেষ হয় না; প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ধাপে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে নির্বাচিতদের চাকরিতে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকায় কয়েকজন প্রার্থীর হতাশা প্রকাশের বিষয়টিও সামনে আসে। তাঁদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, মেধাক্রমে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের নাম প্রজ্ঞাপনে নেই। একজন প্রার্থী আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
তবে সরকার শুরু থেকেই বলেছে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সনদ যাচাই একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। ৫ অক্টোবর আরও ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ সেই প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ।