আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার আগে দলটির অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো একটি শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ কোনো ধারণা নয়। তবে এর জন্য একটি ভিত্তি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশনের বেসিক হচ্ছে—যে গ্রুপ, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল অপরাধ করেছে, তাদের সেই অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকতে হবে। অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপের পরও রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন আসতে পারে। তবে অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয়ে যায় না, এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ৫ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেই দল এবং ওই দলের নেত্রী ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ আমাদের দিক থেকে এন্টারটেইন করা কঠিন। তারা রিকনসিলিয়েশন চাইছে না।
মাঝখান থেকে কেউ রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগ নিয়ে থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরু হওয়ার মতো মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটুকু হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের ঘটনার পর সরকারের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এতে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, জনগণ ক্রমাগত ভোগান্তির শিকার হতে থাকলে, সেটি যদি সরকারি দলের নামে হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এর মাশুল সরকারকে দিতে হবে। সরকার এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা এই পরিকল্পনাটা করতে চাই কিনা। তো আমরা করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় একটি পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।
পরিকল্পনার আগের ধারণা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রাথমিকভাবে নেওয়া পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের বিষয়টি ছিল। তিস্তা এলাকায় বর্ষাকালে ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, সেখানকার প্রপোজাল ছিল এটাকে খনন করে, পাড়টাকে শক্ত করে নদী ভাঙন রোধ করা এবং ল্যান্ড রিক্লেইম করা। আমরা যদি এটাকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আশেপাশে প্রচুর ভূমি, যেটা বর্ষার সময় ডুবে যায় বা ভেঙে যায়, সেটাও আমরা পেতে পারি।
তবে এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে কিন্তু আমরা ওয়াটার রিটেইন করার চেষ্টা করছি। বর্ষার পানি জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা হলেও ব্যবহার করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, তিস্তার কাজটা কঠিন, কারণ হচ্ছে তিস্তা অনেক খরস্রোতা, অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা একটি পরিকল্পনা করতে পারবেন।
এখন তিস্তা পরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, সরকার এই প্রচেষ্টা করার জন্য খুবই আন্তরিক।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো দেশের অর্থায়ন হবে কিনা, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ফান্ডিং কীভাবে হবে, সেটা ওপেন অ্যান্ডেড। আমি এটুকু নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশ তার স্বার্থের জন্য, স্বার্থের পক্ষে যায় এমন সিদ্ধান্তই নেবে।
তিনি আরও বলেন, কোন উৎস থেকে অর্থ নিলে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা হবে অথবা বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করলে কী সুবিধা হবে তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা একটি স্বাধীন সার্বভৌম সরকার, যে সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।