অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজে আবারও পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৩৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় সাদিয়া ইসলামরা। পরে পাকিস্তানের উড়ন্ত সূচনাও থামিয়ে দিয়ে স্বাগতিকদের ১২৬ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে ১৩ রানের জয়ে ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।
মঙ্গলবার ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৪ রানেই হারায় দুই উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন পরের ব্যাটাররা। অচেনা করেন ১৭ রান, নিশি যোগ করেন ২০। অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম করেন ২৪ রান। শেষ দিকে সাদিয়া আক্তারের অপরাজিত ৩৩ এবং ফারজানার অপরাজিত ২৮ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে রোজিনা ও মাহাম দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট পান সাহার বানু।
১৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য দারুণ শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। উদ্বোধনী জুটিতে রাভাইল ফারহান ও কোমল খান দ্রুত রান তুলতে থাকায় একটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পাকিস্তানের হাতে চলে যাচ্ছিল। রাভাইল ফারহান ২৯ বলে ৩২ এবং কোমল খান ২৯ বলে ৩৬ রান করেন। তাদের ব্যাটে পাকিস্তানের রান ৬৯-এ পৌঁছে যায়। কিন্তু সেখানেই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। ৬৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর মাত্র দুই রানের ব্যবধানে আরও দুটি উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৭০ ও ৭১ রানের মধ্যে পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের রান তাড়ার গতি কমিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকায় চাপও বাড়তে থাকে পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর। উইকেট হাতে থাকলেও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে বড় শট খেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৬ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশ পায় ১৩ রানের জয়। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ফারজানা ইয়াসমিন। ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। নিশিতা আক্তার নিশি ২৮ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। তিথি দাস অপর্ণা ৮ রান দিয়ে শিকার করেন একটি উইকেট।
এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হলো। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও তৃতীয় ম্যাচে আবারও স্বাগতিকদের হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দলটি।
প্রথম ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচেও পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যে বাড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের হারের ভুলগুলো কাটিয়ে ফাইনালে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলাই হবে সাদিয়া ইসলামদের লক্ষ্য। ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি জয় তাই বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকছে।