যদি কাজ হানড্রেট পারসেন্ট করে, তাহলে ফলক উন্মোচন করব আমি, তা না হলে করব না। কোনো দুই নম্বরি কাজ আমার আমলে কোথাও করা যাবে না। আমি দুই নম্বর নই, জনগণ দুই নম্বর নয়, কোনো ঠিকাদার দুই নম্বর রাখব না আমি। সরকারি কর্মকর্তাদের
উদ্দেশে বলেন, তোমরা মাঝে মাঝে এসে তদন্ত করে যদি দুই নম্বরি দেখো, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবে।
গতকাল শনিবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে কোথাও ১ মিনিট ৩ সেকেন্ড, আবার কোথাও ৩৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছিল গত শুক্রবার বিকেলের। এতে দেখা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট রেলস্টেশন থেকে ধরলা নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজের শুভসূচনা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে তিনি ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সড়ক নির্মাণকাজের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন।
পরে অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সতর্কতামূলক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন আইডির মন্তব্যের ঘরে অনেকে তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেন। কেউ বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও সঠিক উল্লেখ করে শুভকামনা জানান, আবার কেউ মন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
অনেকে মন্তব্য করেন, আপনার মতো মন্ত্রী সব এলাকায় থাকলে দুর্নীতি অনেকটা কমে যেত। আবার কেউ বলেন, শুধু বললেই হবে না, কাজের সঠিকভাবে খোঁজখবর নিতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি হবে।
এদিকে, সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আশা, সড়ক নির্মাণকাজটি নির্ধারিত মান ও সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে যোগাযোগব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে ও কম সময়ে স্থানীয় হাটবাজারে পরিবহন করতে পারবেন। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ আরও সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
লালমনিরহাটের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইনসাফুল হক সরকারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।