অপরাধীদের রক্ষায় সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা; অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই
অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে অপরাধীদের রক্ষায় কেউ সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ আক্রমণের শিকার হচ্ছে। তা সত্ত্বেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা গ্রেপ্তার ঠেকাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ফিশিং, ব্ল্যাকমেইলিং, অনলাইন হয়রানি ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আধুনিক অবকাঠামো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ল্যাব স্থাপিত হলে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে অপরাধের পরিধিও বিস্তৃত হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার পর চট্টগ্রামেও সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি জু, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।