আফগানিস্তানে স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বের হলেই তিন মাস কারাদণ্ড

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে আঘাত করতে পারবে, তবে সহিংসতার ফলে ভাঙা হাড় বা দৃশ্যমান ক্ষত সৃষ্টি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৫ দিনের কারাদণ্ড। অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব মহিলার উপর থাকায় আইনি প্রতিকার প্রায় অসম্ভব। এছাড়া, ৩৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, যে কোনো মহিলা স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বের হলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আইনে মানসিক বা যৌন সহিংসতা নিষিদ্ধ করার কোনো বিধান নেই।

জানুয়ারিতে তালেবান কর্তৃক ঘোষিত নতুন এই দণ্ডবিধি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছে। তারপর থেকেই বিশ্বব্যাপী আফগান নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে।

এই দণ্ডবিধি কার্যকরভাবে নারীর বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতাকে অনুমোদন করছে এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলছে। এটি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত এবং দেশের আদালতে বিতরণ করা হয়েছে। আইন নারীর মৌলিক অধিকার সীমিত করার বৃহত্তর সামাজিক ও আইনি কাঠামোর অংশ।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নারী শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থান এবং জনসাধারণে অংশগ্রহণে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা থেকে নারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮–২৯ বছর বয়সী প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণী শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত।

সরকার জনসাধারণে নারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধি প্রয়োগ করছে। নারীদের শরীর ও মুখ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক, গান বা উচ্ছ্বসিতভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ। আত্মীয় নয় এমন পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করা বেআইনি।

নারী ও মেয়েদের প্রতি জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই কোডের প্রভাবকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর প্রতিক্রিয়ার প্রশ্ন উঠেছে।

তুর্কি চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ওম্যানপোস্ট এর আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি বুলুত রেহানোগলু বলেছেন, ‘আমাদের কাজ আফগান নারীদের কেবল নির্যাতনের শিকার হিসেবে নয়, পেশাদার, শিল্পী ও ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সীমিত প্রবেশাধিকারের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রয়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের বিস্তৃত সামাজিক প্রভাব গুরুতর হতে পারে। শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণে বাধা মাতৃমৃত্যু বাড়াতে পারে, সীমিত সুযোগ বাল্যবিবাহ এবং কিশোর বয়সে সন্তান প্রসব বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করতে পারে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত